চাঁদপুরের কচুয়ায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও টানা তিন দিনের প্রবল বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান এবং ভুট্টা ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান কাটার মৌসুমে প্রকৃতির এমন রুদ্ররূপে সোনালি ফসল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে সোমবার,মঙ্গলবার ও বুধবারের টানা বৃষ্টিতে মাঠের পাকা ও আধাপাকা ধান, ভুট্টা, তিলসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাচার ঘোগড়ার জলা, হরিপুর, আটমোর, জোয়ারীখোলা, বুধুন্ডা, বিতারা, জলাবিতারা, তেতৈয়া নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির উচ্চতা আরও বাড়ার আশঙ্কায় অনেক কৃষক দ্রুত আধাপাকা ধান কাটা শুরু করছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে এসব মাঠের প্রায় ৮০শতাংশ ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে পুরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে থাকবে।
সাচার ঘোগড়ার বিলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শাহজালাল,মবিন ও রাসেল বলেন, ‘ধার-দেনা করে ফসল চাষ করেছিলাম। এখন ধান,ভুট্টা পানির নিচে। ফসল পুরোপুরি নষ্ট হলে একদিকে ঋণের টাকা কিভাবে দিব বুঝতে পারছি না।’
কচুয়া উপজেলা কৃষি অফিসার তফু আহমেদ বলেন, কৃষকদের ফসল ধান অধিকাংশই পেকে গেছে। এখন ধান পানির নিচে থাকলেও ২/১দিন পরে পানি সরে যাবে। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, সুযোগ পাইলেই যেন তাদের ধান মাঠ থেকে কেটে নিয়ে যায়। ভুট্টা নিয়ে তিনি বলেন, পানি সরে গেলে ভুট্টা গাছের গোড়ায় মাটি দেয়ার পরামর্শ দেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

