আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শীতের দাপটে কাঁপছে বিপর্যস্ত জনজীবন

উপজেলা প্রতিনিধি, খানসামা (দিনাজপুর)

শীতের দাপটে কাঁপছে বিপর্যস্ত জনজীবন

হিমালয়ের পাদদেশঘেঁষা উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরের খানসামায় শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। জানুয়ারির শুরুতেই কনকনে ঠান্ডা, হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার দাপটে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌষের মাঝামাঝি সময় থেকে উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসা এই শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশা যুক্ত হওয়ায় ঠান্ডার তীব্রতা আরও বেড়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।

শনিবার ভোরের আগেই খানসামা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সড়ক-মহাসড়ক ও হাটবাজারে মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।

বিজ্ঞাপন

কুয়াশার কারণে বিভিন্ন সড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। তীব্র শীতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের না হওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

তবে জীবিকার তাগিদে পরিবারের চাহিদা মেটাতে অনেকেই শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৪ শতাংশ। ফলে কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে আর্দ্রতা যুক্ত হয়ে শীতের অনুভূতি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

খানসামা উপজেলার সহজপুর গ্রামের বাসিন্দা হাতেম আলী বলেন, কনকনে ঠান্ডায় শরীর যেন অবশ হয়ে আসছে। ভোর থেকেই হাড় কাঁপানো শীত, ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে ঘর থেকে বের হওয়াই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে দিনমজুর আনিস বলেন, এই প্রচণ্ড শীতে কাজ করা খুবই কষ্টের। ঠান্ডায় হাত-পা ঠিকমতো নড়ে না, তবুও পেটের দায়ে কাজে বের হতে হয়। কাজ না করলে সংসার চালানোই অসম্ভব।

এ বিষয়ে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা কমেনি। তিনি বলেন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। বর্তমানে কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাস ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে জনজীবন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন