পলাশবাড়ীতে চকচকে সবুজ পেয়ারা বদলে দিয়েছে জীবন

উপজেলা প্রতিনিধি, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা)

পলাশবাড়ীতে চকচকে সবুজ পেয়ারা বদলে দিয়েছে জীবন
পেয়ারা বাগানে আল মাহদী হাসান। ছবি: আমার দেশ

আল মাহদী হাসান। এক পরিশ্রমী শিক্ষিত বেকার যুবকের নাম। পাশ করেছেন ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখেছিলেন এ যুবক। ধরা দেয়নি স্বপ্ন। তবে তিনি দমে যাননি। অদম্য চেষ্টায় তিনি এখন সফল উদ্যোক্তা। বাণিজ্যিকভাবে পৈতৃক জমিতে চকচকে সবুজ মিষ্টি পেয়ারা চাষ করে আজ তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরশহরের আন্দুয়া গ্রামের মৃত ছামছুল আলমের ছেলে মাহদী। বাড়ির পাশের ৯০ শতক জমিতে জীবনে প্রথমবার উন্নতজাতের পেয়ারা চাষ করে তিনি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। বছরে পেয়ারা চাষ থেকে তার আয় হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

করোনাকালে ২০২০ সালে তিনি প্রথম ৯০০টি পেয়ারার চারা রোপণ করেন। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের পরামর্শে উন্নত থাইজাতের চারা দিয়ে তার পেয়ারা বাগানের যাত্রা শুরু হয়।

আল মাহদী জানান, ‘বাড়ির পাশে আনুমানিক ৯০ শতক জমি রয়েছে। সেখানে চারা রোপণের পর ৩ মাস নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাগানে অসংখ্য পেয়ারা আসতে শুরু করে। সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমি মূলত পচা কচুরিপানা ও জৈব সারের সাথে সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করি।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাহদীর বাগান জুড়ে ঝুলছে অসংখ্য গোল আকারের পলিথিনে মোড়ানো সবুজ পেয়ারা। সবুজ আবহে বাগানের এই মনোরম দৃশ্য দেখে যে কারো চোখ জুড়িয়ে যায়। বর্তমানে তিনি প্রতিটি গাছ থেকে ২ থেকে ৩ মণ পেয়ারা সংগ্রহ করছেন। সময় ও আকারভেদে বাজারে প্রতি মণ পেয়ারা ২ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন। কীটনাশক ও বালাইনাশকের ব্যবহার খুব একটা প্রয়োজন না হওয়ায় পেয়ারা সম্পূর্ণ বিষমুক্ত। খেতেও সুস্বাদু। বাজারে এর চাহিদাও অনেক বেশি। ফলে খরচ বাদে ভালো লাভের মুখ দেখছেন। এ বছর প্রায় ৮ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রির আশা করছেন, এমনটাই জানান মাহদী।

আল মাহদীর কম খরচ ও অল্প সময়ে বেশি লাভের হিসাব দেখে পেয়ারা চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় অন্য চাষিদের মাঝেও।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, থাইপেয়ারা একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। এ জাতের চারা রোপণের অল্প দিনের মধ্যেই ফুল ও ফল ধরে এবং ৬ মাসের মধ্যেই তা বাজারজাত করা যায়। পেয়ারাগুলো দেখতে তরতাজা এবং ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, থাইজাতের উচ্চ ফলনশীল পেয়ারা চাষের বিষয়ে মাহদীকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাজ্জাদ হোসেন সোহেল জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পলাশবাড়ী পৌরসভাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে রবি শস্য ও ফলের চাষ হয়েছে। কৃষকরা রাসায়নিকের বদলে বায়ো-পেস্টিসাইড ব্যবহার করে বিষমুক্ত পেয়ারা চাষ করছেন। বাজারে পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন