দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে তীব্র শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৪ হাজার ঘরবাড়িসহ ১ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বড় আকারের শিলার আঘাতে ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে এবং আম-লিচুসহ বিভিন্ন ফলের বাগান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের রুদ্রানী, উষাহার, বানাহার, পানিকাটা, জলপাইতলি, দামোদারপুরসহ ওই ইউনিয়নের প্রায় ১০ টি গ্রামে এই শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হয়। এদিকে ওইদিন সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাছান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বড় বড় শিলা পড়তে থাকে। এতে এলুয়াড়ী ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের বাড়ি গুলোতে টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে। আম, লিচু, ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসময় গাছের ডালে থাকা পাখি এবং হাঁসমুরগিও মারা গেছে।
পানিকাটা গ্রামের মিজানুর রহমান, আজিজার রহমান, তরিকুল ইসলাম বলেন, বিকেলে “হঠাৎ করেই বড় বড় শিলা পড়া শুরু হয়। শিলার আঘাতে ঘরের টিনের চাল পুরোপুরি ফুটো হয়ে গেছে।” জমির ধান গুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ধারদেনা করে ফসল আবাদ করেছি, এখন আমাদের মাথায় হাত পড়েছে।
একই কথা বলেন, উষাহার গ্রামের জাহিদুল ইসলাম, মঞ্জুরুল হক, মনছুর আলী, রোস্তম আলী। তারা বলেন, অনেক কষ্ট করে জমিতে ধান রোপন করেছিলাম। আর মাত্র ২০-২৫দিন পরে ফসল ঘরে তুলতাম আমরা। হঠাৎ শীলা বৃষ্টিতে সব ফসল মাটিতে মিশে গেছে। একদিকে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে অন্যদিকে বাড়ির টিনের চালা ফুটো হয়ে নষ্ট হয়েছে। এখন আমরা কি করে সামলিয়ে উঠবো ভেবে পাচ্ছি না।
এলুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নবিউল ইসলাম জানান, শিলাবৃষ্টির আঘাতে এলুয়াড়ী ও কাজিহাল ইউনিয়নের কিছু অংশ অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আম, লিচুর বাগানসহ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিনে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ নির্ণয় করে তালিকা করছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানো হচ্ছে। এতে প্রায় ৪ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছি। এলুয়াড়ী ইউনিয়নের ৮-৯টি গ্রামে ১হাজার ৫২৮ হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ধান ১৫শ হেক্টর, শাকসবজি ৫ হেক্টর, ভুট্টা ১০ হেক্টর, আম ৫ হেক্টর, কলা ৫ হেক্টর, পেঁপে ১ হেক্টর, সজিনা ১ হেক্টর, কাঁঠাল ১ হেক্টর, মাল্টা ০.৫হেক্টর।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাছান বলেন, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের একটি বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

