আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজ

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কলেজের জায়গায় দোকান নির্মাণের অভিযোগ

রাজশাহী অফিস

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কলেজের জায়গায় দোকান নির্মাণের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিএনপি নেতা এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভবনের দেয়াল দখল করে দুটি দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদ আলী শনিবার তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ সাইদ আলী জানান, কলেজের প্রধান ফটকসংলগ্ন সরকারি রাস্তার পূর্ব পাশে অব্যবহৃত সামান্য জায়গায় কলেজ ভবনের দেয়ালের সঙ্গে সংযুক্ত করে এমদাদ হোসেন জোর করে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করছেন। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে একই স্থানে দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হলে কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি পুনরায় একই স্থানে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ কয়েক দফা আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা চালালেও সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরো বলেন, ভবনের ওই অংশে বৈদ্যুতিক মিটার সংযুক্ত এবং মেঝেতে সেপটিক ট্যাংক রয়েছে। দোকানঘর নির্মাণের ফলে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সেপটিক ট্যাংক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এছাড়া কলেজের রসায়ন ল্যাবরেটরি ও উপাধ্যক্ষের কক্ষের জানালাগুলো নির্মাণাধীন দোকানের ভেতরে পড়ে যাচ্ছে। জানালা বন্ধ হয়ে গেলে স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচল ব্যাহত হবে, যা শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এমদাদ হোসেন পবা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২১ ডিসেম্বর নওহাটা পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তবে তিনি পরাজিত হন।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা এমদাদ হোসেন বলেন, জায়গাটি আমাদের। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারবে না। তবে ইউএনও যদি নিষেধ করতেন, দোকানঘর করতাম না। এখন প্রশাসন বললে সরিয়ে নেব।

এ বিষয়ে পবার ইউএনও আরাফাত আমিন আজিজ বলেন, আগেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। জমির কাগজপত্র থাকলে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোখ করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সে সুযোগ দেননি। সরকারি ছুটির দিনে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগও রয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন