ভাগ্য বদলাতে আগাম আলু চাষ

ভাগ্য বদলাতে আগাম আলু চাষ

ভাগ্য বদলাত শীতকালীন ফসল আলু বপন ও জমি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের চাষিরা। ধান কেটে আগাম আলু চাষে রীতিমতো চলছে প্রস্তুতির উৎসব। গত বছর সেভেন জাতের আগাম আলুতে ৬০ দিনে বিঘাপ্রতি ৩৫-৪০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। ফলে আগাম আলু চাষ এই এলাকার কৃষকের ভাগ্য বদলের ফসলে রূপ নিয়েছে। এ বছরও সেভেন জাতের আলুতে বাজিমাতের স্বপ্ন দেখছেন স্বপ্নবাজ আলুচাষিরা। তাই তারা উঁচু জমিতে সেভেন জাতের আলু বপন শুরু করেছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, সেভেন জাতটি স্থানীয় আলুর জাত। জাতটি শীতের আগে রোপণ করলেও তেমন ক্ষতি হয় না। ফলন হয় ভালো। গত বছর দেশের বাজারে প্রথম এই আলু ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তাই নভেম্বর মাসের শুরুতে আলু বপনের উপযুক্ত সময় হলেও এ বছর সেপ্টেম্বরের শেষ সময় হতে আগাম আলু বপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় ৬,৬৭০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম আলুই চাষ হবে ৪,৪০০ হেক্টর জমিতে। কৃষকরা ইতোমধ্যে বপন শুরু করেছেন। গত বছর আগাম আলু চাষ করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ হতে পারে।

মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন আলুর চাহিদা বেশি থাকায় এখানকার কৃষকরা বেশি দাম পাওয়ায় লাভবান হন। এছাড়া কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা স্থানীয় সেভেন জাতের আগাম আলু চাষ করে থাকেন, যা বপন থেকে ৫৫ থেকে ৬০ দিন বয়সে উত্তোলন করা যায়। এই অল্প সময়ে আলুতে কৃষকরা যা লাভ করেন অন্য কোনো ফসলে তা আসে না। ফলে এ বছর সময়ের আগেই ফসলের মাঠে আগাম আলু চাষে ধুম পড়েছে।

গত মঙ্গলবার রণচণ্ডী ইউনিয়নের কুঠিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর সাত্তার তার ৪০ শতাংশ জমিতে সেভেন জাতের আগাম আলু রোপণ করেন। এই কৃষক দেশের প্রথম আলু উত্তোলন করে ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে আলুর দাম পাওয়ার আশা করছেন। এই দামে আলু বিক্রি করতে পারলে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে বলে আশা করছেন। আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি আরো দুই বিঘা জমি প্রস্তুত করেছেন, শুক্রবার থেকে বপন শুরু করবেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাহাগিলী, পুঁটিমারী, নিতাই ইউনিয়নসহ উপজেলার উঁচু জমিতে জমি প্রস্তুত শুরু করেছেন আলুচাষিরা। তারা কয়েক দিনের মধ্যে সেভেন জাতের আলু রোপণ করবেন বলে জানান।

বাহাগিলী ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক জানান, সেভেন জাতের আলু এই এলাকার চাষিদের কাছে সোনার ফসল। এই জাতের আলু চাষ আমাদের এলাকার চাষিদের ভাগ্যবদল করেছে। আগাম আলুই আমাদের অর্থনীতিকে পরিবর্তন করেছে। তাই আমরা সেভেন জাতে এ বছরও লাভের আশা করছি।

উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলুচাষি দুলাল জানান, গত বছর প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে সেভেন জাতের আলু চাষ করে লাভবান হয়েছি। এবারও আগাম আলু রোপণ শুরু করেছি। যার আলু যত আগে উঠবে, ওই চাষি তত লাভবান হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, দেশের প্রথম আলু বপন ও উত্তোলন হয় এই এলাকায়। এখানকার আলু বাজারে প্রথম আসায় চাষিরা বেশ লাভবান হন। আগাম ধানে ভালো ফলন পেয়ে কৃষকরা যেমন খুশি, ওই জমিতে আবার সেভেন জাতের আগাম আলুতে লাভবানের আশায় বপন শুরু করেছেন। এই জাতের আলু কিশোরগঞ্জের কৃষকদের জন্য শুধু আশীর্বাদ নয়, ভাগ্যবদলের ফসল। এ বছর চাষিরা সেভেন জাতের পাশাপাশি কারেজ লাল আলু বপনও করছেন। এর চাহিদা থাকায় সেভেন জাতের মতো লাভবান হওয়ার আশা করছেন চাষিরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন