গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় ইউনিয়নবাসীর ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় ইউনিয়নের ৯ জন ইউপি সদস্য সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলাসহ একাধিক মামলা থাকায় গত এক বছর ধরে হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম পরিষদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন না। এছাড়া তিনি পলাতক থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাধারণ মানুষ নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বেড়া এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, চেয়ারম্যানকে পরিষদে পাওয়া যায় না। অজ্ঞাত স্থান থেকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার চেষ্টা করেছেন।
হলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুদ রানা জানান, চেয়ারম্যান পরিষদে না এসে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। গত এক বছর ধরেই তাকে অপসারণ ও বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকার লোকজন।
এ প্রেক্ষিতে গত ১৬ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন ওই ইউনিয়নের ৯ জন ইউপি সদস্য। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় সরকারি কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভেঙে পড়েছে ইউনিয়নের নাগরিক সেবা। এ অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তারা।
ইউপি সদস্যরা আরো জানান, উপজেলার অন্য তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। অথচ হলদিয়া ইউনিয়নে এত জনভোগান্তি থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নিতে দেরি হচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তার অনুপস্থিতির দাবি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অনলাইনের যুগে সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিকভাবে চালানো হচ্ছে, কোনো সমস্যা হচ্ছে না। প্রয়োজনে তিনি পরিষদে আসেন বলেও দাবি করেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, গত এক বছর ধরে তিনি উপজেলা পরিষদের সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভাসহ কোথাও উপস্থিত হননি।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল কবীর বলেন, ওই চেয়ারম্যানের বিষয়ে আমরা সরেজমিন তদন্ত করে এসেছি। তদন্ত কাজ শেষ হলে জানানো হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

