উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টির পর নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। তবে পানি কমলেও তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বরং বানের পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোতে বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৩ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ২ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে সোমবার রাতে এ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
পানি কিছুটা কমলেও ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী ও খালিশা চাপানী এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ও ডাউয়াবাড়ীসহ ১০টি ইউনিয়নের প্লাবিত এলাকায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দী রয়েছে। অনেক বাড়িতে এখনও পানি থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। গৃহপালিত পশু ও শিশুদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবর আলী জানান, পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় দুর্গত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় তিস্তার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে উজানে আবারও ভারী বৃষ্টি হলে পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তাপাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। নদীভাঙন বা নতুন কোনো দুর্যোগ দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

