কমছে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি, বেড়েছে নদীভাঙন

মিজানুর রহমান রাঙ্গা, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

কমছে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি, বেড়েছে নদীভাঙন
সাঘাটা ও ফুলছড়ি এলাকায় নদীভাঙন। ছবি: আমার দেশ

গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন পানি বাড়লেও এখব বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। পানি কমলেও জেলার সাঘাটা ও ফুলছড়ি এলাকায় ভাঙন বেড়ে গেছে। কৃষি নির্ভর চরাঞ্চলের মানুষের কষ্ট বেড়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ও করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাঁধ। এতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা। সাঘাটায় ১০১ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর তীররক্ষা প্রকল্প সময়মতো শেষ না হওয়ায় যমুনা তীরবর্তী মুন্সিরহাট এলাকায় প্রকল্পটির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। কয়েকবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের ধীরগতির কারণে এবারও বন্যায় প্রকল্পটির সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের জিও ব্যাগ, দুর্বল সিসি ব্লক, পুরাতন ছেঁড়া জিও ম্যাট, খোয়ার স্থলে মাটি মিশ্রিত রাবিশ এবং নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হয় প্রকল্পটিতে। এলাকার লোকজন জানান, প্রকল্পটি ব্যর্থ হলে শুধু মুন্সিরহাট বাজার, মুন্সিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শত শত বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ আবাদি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষায় সাঘাটা ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় চারটি প্যাকেজে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এ ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩১১ দশমিক ৫১ মিটার, প্যাকেজ-২ এ ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩২৭ মিটার, প্যাকেজ-৩ এ ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৭ মিটার এবং প্যাকেজ-৪ এ ২৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৫ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে ভারী ও টেকসই সিসি ব্লক ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে। যমুনার তলদেশে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়েও মানা হচ্ছে না কোনো নিয়মনীতি।

ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নে কাঁটাতার এলাকায় নতুন করে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বালাসী ফেরিঘাট। সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার ভরতখালী বাজার থেকে হলদিয়া পর্যন্ত বাঁধের কাজ ধীরগতি হওয়ায়, আসন্ন বন্যায় উপজেলা শহরসহ অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, এরই মধ্যে কয়েকটি বসতভিটাসহ অর্ধশতাধিক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহ আগে সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দপুরে যমুনা নদীরতীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দেয়। পানির চাপে ১০ নম্বর সাইডে চোখের সামনে নদীতীরের ব্লক ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙনপ্রবণ এলাকায় টেকসই ব্যবস্থা নিলে এলাকাবাসী রক্ষা পাবে বলে জানান, হলদিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মমিন। সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের মাঝে উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। তবে মানুষের দুর্ভোগ লাগবে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তাসহ নদ-নদীর পানি কমছে। ভাঙন বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সজাগ দৃষ্টি রাখছে।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন