গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অধিক লাভের আশায় আগাম জাতের আখ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষক। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় চলতি মৌসুমে ২১৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর আগাম চাষ করা আখের আশানুরূপ ফলনের আশা করছেন চাষিরা।
জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান রংপুর সুগার মিলটি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত। সরকারি সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন থেকে এ সুগার মিলটি বন্ধ থাকলেও আখ চাষে দমে যাননি এ অঞ্চলের শত শত কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে জমিতে আগাম আখ চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। বর্তমানে তীব্র গরমে মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি গোবিন্দগঞ্জে এসে কৃষকদের কাছ থেকে আখ কিনে ট্রাকে করে এসব আখ নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর মেশিনের মাধ্যমে আখ থেকে রস বের করে বিক্রি করা হচ্ছে। আর তাদের উৎপাদিত আখ ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে এলাকার চাষিরা দারুণ খুশি। ফলে সুগার মিল বন্ধ থাকার পরেও আখের বিকল্প বাজার তৈরি হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন এ এলাকার শত শত আখচাষি।
কামারদহ ইউনিয়নের আখচাষি নুনু মিয়া, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইর গ্রামের আখচাষি আব্দুর রশিদ ধলু ও বালুয়া গ্রামের ময়েজ উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকার রংপুর সুগার মিলটি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় এখন গরমের দিনে মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর কথা চিন্তা করেই আমরা এ মৌসুমে আগাম আখ চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদিত আখ এবার ভালো দামে বিক্রি করে অধিক লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।
তবে এলাকার চাষিদের এই সম্ভাবনার মাঝেও রয়েছে কিছু ক্ষোভ ও হতাশা। রংপুর সুগারমিলটি বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মিলের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকার সরকারি সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাপ-দাদার জমি বলে দাবি করে অবৈধভাবে দখলে রেখেছে। কৃষকদের অভিযোগ, এলাকার কতিপয় অসাধু ব্যক্তি সরকারি এসব জমিতে আখ চাষ না করে অন্যান্য ফসলের আবাদ করে ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ বনে গেলেও প্রকৃত কৃষকরা তা ব্যবহার করতে পারছেন না । এতে তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আগাম আখ চাষ করার বিষয়ে জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরুল কায়েস আমার দেশকে জানান, পুরো উপজেলায় চলতি মৌসুমে কৃষকরা যাতে করে তাদের আগাম চাষ করা আখের আশানুরূপ ফলন পায় । সেজন্য কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে তৎপর রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রায় প্রতিদিনই উপসহকারী কৃষি অফিসাররা মাঠ ঘুরে আখের যথাযথ পরিচর্যা, সুষম সারের ব্যবহার এবং পোকামাকড় দমনে চাষিদেরকে সঠিক পরামর্শ ও যথাযথ দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


