যন্ত্রপাতির অভাবে বর্জ্য শোধন ও জৈবসার উৎপাদন প্রকল্প বন্ধ

আব্দুর রাজ্জাক, নীলফামারী

যন্ত্রপাতির অভাবে বর্জ্য শোধন ও জৈবসার উৎপাদন প্রকল্প বন্ধ
নীলফামারীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া এফএসটিপি এফএসটিপি প্রকল্পের বর্জ্য। ছবি: আমার দেশ

নীলফামারী পৌরসভার ফিকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এফএসটিপি) প্রকল্প জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ কারিগরি জনবল এবং বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থার অভাবে কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন প্রত্যাশিত সুফল দিতে না পারায় বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ১১ কোটি টাকার এই এফএসটিপি প্রকল্প কোনো কাজে আসছে না।

জানা গেছে, পরিবেশ দূষণ কমানো, নিরাপদ মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং বর্জ্য থেকে জৈবসার উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নীলফামারীতে গড়ে তোলা হয় ফিকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। কিন্তু প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ কারিগরি জনবলের অভাবে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। উদ্বোধনের কিছুদিন পরেই তা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পরিকল্পিত স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৮৯ একর জমির ওপর এফএসটিপি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও সেপটিক ট্যাংক থেকে বিশেষায়িত ভ্যাকুয়াম ট্যাংকারের মাধ্যমে মানববর্জ্য সংগ্রহ করে পরিবেশসম্মত উপায়ে শোধন করা এবং প্রক্রিয়াজাত করে জৈবসারে রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমার কথা ছিল।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, সংগৃহীত বর্জ্য প্ল্যান্টে এনে স্তূপ করে রাখা হলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে শোধন বা পুনর্ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব। মিশ্র বর্জ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল উপাদান থাকায় হাতে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে পুরো শোধন প্রক্রিয়াই কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

নীলফামারী পৌরসভার কনজারভেন্সি কর্মকর্তা আব্বাস আলী বলেন, ‘ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পর থেকেই সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। শুরুতে কয়েকজন নারী শ্রমিক হাতে প্লাস্টিক আলাদা করতেন। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের মিশ্র বর্জ্য থেকে হাতে প্লাস্টিক পৃথক করা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। এ কাজের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।’

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক রেজা বলেন, ‘পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করা গেলে পচনশীল অংশ থেকে উন্নত মানের জৈবসার উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষিতে জৈবসারের ব্যবহার বাড়বে এবং পৌরসভার জন্য নতুন রাজস্ব আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

নীলফামারী পৌরসভার প্রশাসক সাইদুল ইসলাম জানান, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক মেশিনারিজ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। সংগৃহীত বর্জ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই প্লাস্টিক ও অপচনশীল উপাদান হওয়ায় সেগুলো পৃথক করতে অতিরিক্ত ব্যয় ও প্রযুক্তির প্রয়োজন হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...