সারা দেশের মতো দিনাজপুরেও জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিনই তেল নিতে আসা যানবাহন ও চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল না পেয়ে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, কোথাও কোথাও বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এমনকি তেল সংগ্রহ করতে এসে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও অনিয়ম প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান জোরদার করেছে। অভিযানে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ দিনাজপুর সদর উপজেলার ফুলতলা বাজার এলাকায় অবস্থিত “মেসার্স শামীম ট্রেডার্স” নামের একটি ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জারিফ সুলতানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অনুমোদনের অতিরিক্ত পেট্রোল মজুদের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে ওই ফিলিং স্টেশনে ১১ হাজার লিটার পেট্রোল পাওয়া যায়, যেখানে অনুমোদিত পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫০০ লিটার। এছাড়া ৪ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেলও পাওয়া যায়। অতিরিক্ত মজুদ থাকা ৬ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল তাৎক্ষণিকভাবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।
এর আগে ২৮ মার্চ বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের ধনগাঁও বাজার এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এক অভিযানে ৩৫০ লিটার ডিজেল ও ৩০ লিটার অকটেন জব্দ করে। এ ঘটনায় পরিতোষ রায় (২৭) নামের এক ব্যক্তিকে ৭ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দকৃত তেল সরকারি মূল্যে বিক্রি করে অর্থ কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
এদিকে ২৬ মার্চ কাহারোল উপজেলার সুন্দইল আছমা লতিফা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এনায়েতুল করিম নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা শহরের রহমান ফিলিং স্টেশন ও সূচনা ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি স্থানে তেল নেওয়া কেন্দ্র করে চালক ও কর্মচারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ৯২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২৪টি ফিলিং স্টেশনে ২৪ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা তেল সরবরাহ কার্যক্রম মনিটরিং করছেন।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা বাজার অস্থিতিশীল করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। নিয়ম বহির্ভূতভাবে তেল মজুদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ অবস্থায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও অভিযানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

