বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির রংপুর ২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট পেশ করেছেন তা হচ্ছে একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট। এই বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে বড় শঙ্কা রয়েছে।
কারণ, এই বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কোনো রূপরেখা তুলে ধরা হয়নি। এছাড়া দেশকে পঙ্গু করতে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে ২৭ লাখ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, সেই টাকা ফেরত আনার ক্ষেত্রেও বাজেটে তেমন কিছু বলা হয়নি। তাই বলছিলাম এই বাজেট একটি উচ্চ বিলাসী বাজেট। এই বাজেট সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় শঙ্কা রয়েছে।
শনিবার ১৩ জুন সকালে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
এটিএম আজহার বলেন, যে সরকার ক্ষমতায় আসে তারা সব সময় তাদের সাফল্য দেখতে পান। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তারা শুনতে চান না। আশপাশের নেতা এবং সাঙ্গপাঙ্গরা যা-ই বলেন, সেটাই সরকার শুনে থাকেন। আপনারা জানেন নেতারা কখনো সরকারের সমালোচনা করে না।
ভালো-মন্দ যাচাই না করে সব সময় তারা সরকারের প্রশংসা করে থাকেন। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা আসুক সে বিষয়টি তারা তুলে ধরে না। নেতারা তাদের পকেট তাজা করার চেষ্টা করেন। তাদের কথাই কাজকর্ম পরিচালিত হয়। এ কারণে বঞ্চিত এলাকা এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়ন সঠিকভাবে হয় না।
বর্তমান সরকারের দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার যে বাজেট দিয়েছে। এই বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা হচ্ছে নিয়মিত তাদের দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি। তাদের দলের নেতাকর্মীরা হাটবাজার, রাস্তাঘাট এবং পরিবহনসহ বিভিন্ন স্পট থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি করে করছে।
চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। পরিবহনে চাঁদাবাজির কারণে শ্রমিক, চালক ও মালিকপক্ষ সড়ক অবরোধ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তার পরেও তাদের চাঁদাবাজি কমছে না। তাদের চাঁদাবাজির কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। সেই পণ্যগুলো সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মূলত সাধারণ মানুষ। লাভবান হচ্ছে চাঁদাবাজরা। এই বাজেট সঠিকভাবে জনগণের কল্যাণ এবং দেশের জন্য বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই সবার আগে চাঁদাবাজে রূখতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে এদেশের উন্নয়ন কখনো সম্ভব হবে না।
আইন শৃঙ্খলা অবনতির বিষয়ে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, বর্তমান দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নেই। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও বিভিন্ন ইস্যু এবং ইস্যু ছাড়া হত্যাকাণ্ডসহ নানান ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।
কিছু কিছু ঘটনা মিডিয়ার মাধ্যমে আপনারা জানতে পারলেও অনেক বড় বড় ঘটনা মিডিয়ায় না আসার কারণে সেগুলো আপনারা জানতে পারছেন না। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ভীতি ও আশঙ্কা নিয়ে মানুষ পথেঘাটে চলাচল করছে। তাই বলছি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে হলে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।
বিগত সরকারের এমপিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি বলেন, আমি জেলখানায় থেকে শুনতাম ফ্যাসিট আওয়ামী লীগ সরকারের এমপিরা এত বেশি কাজ করেছেন যে দেশের প্রতিটি সড়ক জনপদ এবং ছোট বড় রাস্তাঘাট পাকা করন হয়েছে। কোথাও মাটিতে পা ফেলার জায়গা নেই। এখন এলাকায় এসে দেখি ৭০% রাস্তা কাঁচা চলাচলের অনুপযোগী। আওয়ামী সরকারের যত এমপি-মন্ত্রী ছিল সবাই জনগণের সামনে মিথ্যা কথা বলত।
কারণ, তাদের জনগণের কাছ থেকে ভোট নেওয়ার দরকার ছিল না। ওরা ভোট ছাড়া এমপি হতো। তাই সাধারণ মানুষের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। জনগণকে নিয়ে তারা কোনো চিন্তা করেনি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিজের পকেট ভারী করা এবং বিদেশে অর্থ পাচার করা।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যে উদ্দেশ্যে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তাদের সেই উদ্দেশ্য তারা বাস্তবায়ন ঠিকই করেছে। ওই সব এমপিদের কাজ ছিল তাদের নেত্রীকে খুশি করা। নেত্রী খুশি তো সব ঠিক।
এটিএম আজহার বলেন, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জনগণের ভোটে মানুষের সঙ্গে ওয়াদাবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছি। তাই মিথ্যা কথা বলা মিথ্যা ওয়াদা করা এবং জনগণের সাথে প্রতারণা করার কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এমপিরা একটি টাকা ঘুষ খায় না। কাউকে ঘুষ খেতেও দেয় না।
তাছাড়া দলের কোনো নেতাকর্মী কোনো অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন বা কোথাও চাঁদাবাজি করলে তাৎক্ষণিক তাকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দলীয় এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাই দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
উপজেলা আমির কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ভিত্তিপ্রস্তর ও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মদ রুস্তম আলী, উপজেলা প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যবৃন্দ।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

