রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ধোলাইঘাট বাজার থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের পিচ-কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিদিন এ সড়কে চলাচলকারী মানুষ ও যানবাহনের চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে মাটি ও খোয়া বেরিয়ে এসেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্ত এড়িয়ে অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে গিয়ে চালকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা লাভলু হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে যায়। তখন কোনটা গর্ত আর কোনটা রাস্তা বোঝা যায় না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার।’
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি সয়ার ও আলমপুর ইউনিয়নের মানুষের জন্য সৈয়দপুর উপজেলায় যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে সময় বেশি লাগছে, বাড়ছে ভোগান্তি। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করা হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, ‘আলমপুর ইউনিয়নের সড়ক দুটি আমরা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

