শিয়ালগাজীর এই কবরস্থান এক লোকজ ঐতিহ্যের অংশ, যার সঠিক লিখিত ইতিহাস না থাকলেও মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তিই এটিকে জীবন্ত করে রেখেছে, যা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের শিয়ালগাজী কবরস্থান স্থানীয়দের কাছে এক রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক স্থান। এখানে অবস্থিত দারগাপীরের কবরে সালাম দিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কবর প্রায় ৭০ হাত লম্বা, যা সাধারণ কবরের তুলনায় অস্বাভাবিক বড়। কবরটি এখনো লাল শালু দিয়ে মোড়ানো রয়েছে, যা স্থানটির ধর্মীয় গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মানত ও বিশ্বাসের আলোকে স্থানীয় মুনছুর আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই দারগাপীরের কবর ঘিরে নানা অলৌকিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই এখানে এসে মানত করেন এবং তাদের আশা পূরণ হয়েছে বলে দাবি করেন। ফলে দিনে দিনে এই স্থানে ভক্তদের আগমন বাড়ছে। মনছুর আলী আরো বলেন, সেবাযত্ন করলে অনেক কিছু পাওয়া যায়। আমি নিজেও পেয়েছি। যেমন— পার্শ্ববর্তী পুকুরে মাছ থাকে, পীরের সেবা করলে মাছ পাওয়া যায়, না করলে পুকুরে মাছ পাওয়া যায় না।
গোগর বাজারের রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানটিতে প্রায়ই মিলাদ, দোয়া ও ফাতেহা পাঠের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এখানে ইবাদত করেন এবং রান্নাবান্না করে এখানে খেয়ে চলে যান। কবরের চারপাশে একধরনের নীরব ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ প্রয়োজন। এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই লোকজ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে।
শিয়ালগাজী কবরস্থানের দারগাপীর শুধু একটি কবর নয়, এটি মানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক। লিখিত ইতিহাসের বাইরে থেকেও এই স্থান আজ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আবাদতাকিয়া মোহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আইয়ুব আলী বলেন, কবরটি বহু পুরোনো। মানুষ বিপদে-আপদে সেখানে যায়, জিয়ারত করে। আল্লাহর সুফল দেয়, তবে মাজার দেয় এটা ঠিক না।
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা মাজারটির প্রাচীর নির্মাণ করে দেয়। তখন থেকেই এলাকার লোকজন সেখানে মানত করে টাকাপয়সা দেয়। তবে মনের বাসনা পূর্ণ হয় কি না, আমার জানা নেই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

