গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়িতে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার ক্রমাগত ভাঙনে ২৫ বছরে আড়াই হাজার পরিবার ২০ বার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ভাঙনরোধে নেওয়া হচ্ছে না স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা। এতে বর্ষা এলেই দেখা দেয় ভাঙন । জানা গেছে, গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়িতে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার ভাঙন থামছে না । ভাঙনে ভিটেমাটি, কৃষিজমিসহ নানা স্থাপনা বিলীন হয়ে যাচ্ছে । জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন বিভিন্ন শহরে গিয়ে শ্রমিক-দিনমজুর কিংবা নানা পেশা অবলম্বন করে জীবনযাপন করছে।
আর যারা বাপদাদার মাটি আঁকড়ে পড়ে আছেন, তারা এখনো প্রতিবারই ভাঙনের শিকার হচ্ছেন। এ ভাঙনের শিকার মানুষদের রক্ষায় নদীশাসন প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। জানা গেছে, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনাবেষ্টিত গাইবান্ধা জেলার নদীমাতৃক এলাকা সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা। দুই উপজেলায় প্রতি বছরই নদীগর্ভে বিলীন হয় শত শত বিঘা কৃষিজমি, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত হলদিয়া, জুমারবাড়ী ও সাঘাটা ইউনিয়নে গত ১০ বছরে ৬০ ভাগ যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
১০টি মসজিদ, পাঁচটি মাদরাসা ও ৯ প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্তত ১৭ বার যমুনার করাল গ্রাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে যমুনার গতিপথ পরিবর্তন ও তীব্র ভাঙনে সাঘাটা উপজেলার প্রায় ২০.৮৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়েছে যমুনা নদীতে। ভাঙনরোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ১০১ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর তীররক্ষা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় বিগত সরকারের সময়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়সারা কাজ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তদারকির অভাবে উপজেলার যমুনা তীরবর্তী মুন্সিরহাট এলাকায় এ প্রকল্পটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কাজের ধীরগতির কারণে প্রকল্পটির সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের জিও ব্যাগ, দুর্বল সিসি ব্লক, পুরাতন ছেঁড়া জিও ম্যাট, খোয়ার স্থলে মাটি মিশ্রিত রাবিশ এবং নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা প্রকল্পটিতে। এলাকার লোকজন জানান, প্রকল্পটি ব্যর্থ হলে শুধু মুন্সিরহাট বাজার নয়, মুন্সিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শত শত বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ আবাদি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষায় সাঘাটা ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় চারটি প্যাকেজে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এ ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩১১ দশমিক ৫১ মিটার, প্যাকেজ-২ এ ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩২৭ মিটার, প্যাকেজ-৩ এ ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৭ মিটার এবং প্যাকেজ-৪ এ ২৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৫ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। সাঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিশ শাফী বলেন, ভাঙনের কবলে পড়া বিদ্যালয়গুলোতে পাঠ দানের উপযোগী করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কষ্ট করে হলেও লেখাপড়া চালানো হচ্ছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই এলাকার কাজ কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। তবে কাজের গতি ঠিক আছে। নিম্নমানের কাজ হওয়ার সুযোগ নেই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

