২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, জুলাই আন্দোলনে আশুলিয়ায় মিছিলে গুলিবিদ্ধ হন সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ছাত্রদল কর্মী মো. অপি মিয়া (২১)। প্রাণে বেঁচে ফিরলেও সেই গুলির ক্ষত আজও তাকে শারীরিক যন্ত্রণা দিচ্ছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরলেও তিনি এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।
অপি মিয়া মধ্যনগর উপজেলার দুগনই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম সবুজ মিয়ার ছোট ছেলে এবং নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনের সময় ছোড়া একটি গুলি তার নাভির নিচের বাম পাশ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সহযোদ্ধারা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও সুস্থ করতে দুই দফা অস্ত্রোপচার করতে হয়। প্রায় এক বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরলেও এখনো তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ নন।
অপি মিয়া বলেন, অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থানে এখনো প্রায়ই তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। অনেক সময় ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে বিছানা থেকেও উঠতে পারেন না। এতে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দেশের মানুষ একটি স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে—এই অনুভূতি তাঁর সব কষ্টের মাঝেও আলাদা তৃপ্তি এনে দেয়।
তিনি বলেন, জীবনটা আর আগের মতো নেই। বাইরে থেকে অনেকেই আমাকে সুস্থ মনে করেন, কিন্তু শরীরের ভেতরের যন্ত্রণা এখনো রয়ে গেছে। ক্ষতস্থানে ব্যথা শুরু হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিছানায় পড়ে থাকতে হয়। তারপরও দেশের মানুষের মুক্তির আন্দোলনে অংশ নিতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
অপির বড় ভাই এম. শহীদ বলেন, অপির দীর্ঘ চিকিৎসায় পরিবারের অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে। এখনো তার নিয়মিত চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ফলোআপ অব্যাহত রয়েছে। সে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সেজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

