আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পাম্পগুলোতে সংকট নেই তেলের, হুলুস্থুল ক্রেতাদের

খালেদ আহমদ, সিলেট

পাম্পগুলোতে সংকট নেই তেলের, হুলুস্থুল ক্রেতাদের

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার গুজব ও শঙ্কায় সিলেট নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে হুলুস্থুল অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইন যানবাহনের। ব্যবসায়ীয়া বলছেন, আতঙ্ক থেকে চাহিদার অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রোববার থেকে কোনো ঘাটতি থাকবে না।

জানা যায়, হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত পাম্পে অকটেন-পেট্রোল-ডিজেলের জন্য দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। হঠাৎ করে নিয়মিত চাহিদার কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হওয়ায় বিপাকে পাম্প মালিকরা।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি মাসে দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই। তেলেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকে। হঠাৎ বৃহস্পতিবার রাত থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের কারণে অনেক পাম্পে তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে শুক্রবার পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি মোটরসাইকেল প্রতি সীমিত করেছেন কোনো পাম্প মালিক।

শুক্রবার বিকেলে সিলেট নগরের সোবহানীঘাটে অবস্থিত বেঙ্গল গ্যাসোলিন এন্ড সার্ভিসিং নামে একটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়৷ পাম্পের কর্মচারীরা জানান, তারা মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দিচ্ছেন না। এতে অনেক চালক ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন। দূরের পথযাত্রী চালকরা এই জ্বালানিতে গন্তব্যে পৌঁছা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

হাবিবুর রহমান নামের একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী জানান, জুমার নামাজ শেষে জানতে পারেন জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিতে পারে, তাই এসেছেন। কিন্তু মাত্র ২০০ টাকার অকটেন পেয়ে তিনি হতাশ। ব্যবসার কারণে আবার ঈদের আগে সময় করে পাম্প আসারও সুযোগ পাবেন না বলেই পর্যাপ্ত জ্বালানি নিতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

নগরের পাঠানটুলা এলাকার পেট্রোল পাম্পে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। লাইন ধরে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন চালকরা।

শামীম আহমদ নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বেড়ে যেতে পারে। তাই একটু বেশি করে তেল কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পাম্প থেকে মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে।

এই পাম্পের ম্যানেজার রুপক দাস বলেন, দাম বাড়ার কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। যেহেতু সরকার কিছুদিন আগেই (১ মার্চ) দাম অপরিবর্তিত রেখে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এবং আমরা ঐ দামেই জ্বালানি তেল বিক্রি করছি।

সিলেটের সবচেয়ে বৃহৎ (হকসাবের পাম্প হিসেবে সুপরিচিত) বেঙ্গল গ্যাসোলিনের মালিক ও সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান বলেন, আমাদের কাছে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী ডিপোগুলো থেকে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। আপাতত তেলের কোনো সংকট নেই, তবে সংকটের ধারণা থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংগ্রহ করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাসের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী মাস শেষেই প্রয়োজন হলে মূল্য সমন্বয় করা হয়। তাই, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আমি মনে করি। বৃহস্পতিবার রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ প্রায় নয় হাজার লিটার তেল নিয়ে গেছেন ক্রেতারা।

তিনি পেট্রোল পাম্পগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির সময় ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকে। এমতাবস্থায় অনেকেই আতঙ্কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন, যার ফলে সাময়িকভাবে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

ফলে পেট্রোল পাম্পগুলো রেশনিং করে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। রোববার থেকে আবার স্বাভাবিকভাবেই তেল পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

কারো কারো মজুদ রোববারের আগেই শেষ হয়ে যাবে। তিনি সবাইকে ধৈর্যশীল হওয়ার অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটের পাম্পগুলো এখন পর্যন্ত তেলের সংকট হয়নি। আমাদের সিলেটের সবকটি পাম্পগুলোতে পরিমাণের জ্বালানি তেল রয়েছে।

তিনি বলেন, অনেকেই তেলের সংকটের আশঙ্কা থেকে তেল কিনে নিচ্ছেন। এটা কোনোভাবে কাম্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হবে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্চ মাসে ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হবে। বিশ্ববাজারে দাম ওঠানামা করলেও আপাতত দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন