সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেছেন, সিলেটে একদিনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ খাল খনন কার্যক্রমে অংশ নেবে ও ১০ লাখ গাছ রোপণ করা হবে।
তিনি বলেন, এজন্য উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে। কোন খাল কোথায় খনন করা হবে এবং কোথায় বৃক্ষরোপণ করা হবে, তা এক সপ্তাহের মধ্যে নির্ধারণ করতে হবে।
রোববার প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দেশব্যাপী খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এমনটি জানান।
সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এ সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এছাড়া সংসদ সদস্য এমএ মালিক এবং মুফতি আবুল হাসান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
সভায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, জনগণের কল্যাণে সরকার প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দেশব্যাপী খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিগ্রহণ করেছে। জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এ ধরনের কর্মসূচি শতভাগ সফল করা সম্ভব নয়। তাই খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উদ্যোগ সফল করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
সভায় সিলেট জেলা বিএনপির শহিদ আহমদ, অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, আবুল কাশেম, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশ সরকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জলাশয় পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করেছে। গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ উদ্যোগের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের চারটি সংস্থা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে।
স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, দখল হওয়া খাল পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

