পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধানখালী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে একে একে অন্তত ২৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হঠাৎ করে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় বিদ্যালয় ও হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকরাও।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের সিঁড়িতে অবস্থানকালে তার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর একে একে আরও শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। অসুস্থদের মধ্যে অধিকাংশই নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রী বলে জানিয়েছেন সহপাঠীরা।
বিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান সোহাগ জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার দূরে কলেজ বাজার এলাকার চিকিৎসকদের কাছে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার কথা বিবেচনা করে দ্রুত তাদের কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত অন্তত ২৮ শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে তাদের স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। সন্তানদের অসুস্থতার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন অভিভাবকরা। অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।
একাধিক শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে ক্লাসের মাঝখানে লেইজার বা দুপুরের বিশ্রামের সময় একে একে ছাত্রীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। এ সময় বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক ইকবাল হোসেনও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে সহপাঠীরা জানায়, প্রথমে একজন অসুস্থ হওয়ার পর পরই অন্যদের মধ্যেও একই ধরনের অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। এতে বিদ্যালয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং বলেন, ‘মেডিকেল সায়েন্সে এটিকে মাস সাইকোজেনিক ইলনেস বলা হয়। একজনের অসুস্থতা দেখে অন্যজনও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। মানসিক প্রভাবের কারণে এমনটি হয়ে থাকে। ভয় পাওয়ার তেমন কিছু নেই। সবাইকে সাধ্যমতো যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবাই সুস্থ হয়ে যাবে।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের স্বজনদের মধ্যে এখনও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

