হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সদরে সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ সাত বছরেও শেষ হয়নি। ২০১৯ সালের জুনে কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়ে মেসার্স মঈনউদ্দিন এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত প্রকল্পের কাজের গুণগত মান ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিয়ে প্রথমেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রি-টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করছে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। ২০২৭ সালের মধ্যে হস্তান্তর করার কথা শোনা গেলেও কাজের গতি নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
হবিগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কার্যাদেশের চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে মসজিদটি হস্তান্তরের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মঈনউদ্দীন এন্টারপ্রাইজ তা রক্ষা করতে পারেনি। ধীরগতির মাধ্যমে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১০ ভাগ কাজ করতে সক্ষম হয় অত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপরে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে চলে যায় তারা।
হবিগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ প্রকল্পের অনেকগুলোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কোনো কোনো মসজিদে মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন। অথচ বাহুবল উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ দীর্ঘ সাত বছর ধরে চললেও কার্যাদেশ অনুযায়ী হস্তান্তর প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যেই থেকে যাচ্ছে।
কাজের মান ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হেমায়েত হোসেন বলেন, তারা দুজন যৌথভাবে প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করছেন। তার দাবি, নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা, প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মাণসামগ্রীর মান ও তদারকির বিষয়ে হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহ কাজের গতি কিছুটা স্লো আছে স্বীকার করে বলেন, কিছুদিন বন্ধ থাকার পর কাজ পুনরায় ২০২৪ সালে শুরু হয় এবং ২০২৭ সালের মার্চ মাসে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে বলে তিনি জানান। এর আগে কি কারণে কাজ বন্ধ ছিল এবং বর্তমানে সঠিকভাবে তদারকি হচ্ছে কি না এ বিষয়ে প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি তিন-চার মাস। বিস্তারিত না জেনে বলা সম্ভব না।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

