সুনামগঞ্জের ছাতকে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ টাকা, দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ছাতক উপজেলার ১৩ নম্বর ভাতগাঁও ইউনিয়নের শক্তিয়ারগাঁও গ্রামের দারাখাই কুন্দানালা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে ডাবর-জগন্নাথপুর আঞ্চলিক সড়কে একটি পিকআপ ভ্যানের গতিরোধ করে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল।
ডাকাতরা পিকআপ ভ্যানটির সামনের ও পাশের গ্লাস ভাঙচুর করে গাড়িতে থাকা জগন্নাথপুরের ‘হাবিব ভ্যারাইটিজ স্টোর’-এর কর্মচারীদের মারধর এবং প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ২ লাখ ৬ হাজার টাকা লুট করে নেয়।
ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হন দোকানের কর্মচারী স্বপন দাস, চালক স্বদেব দাস ও প্রান্ত দাস। পরে দোকান মালিক মো. মতিউর রহমান বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই শেখ মো. মিরাজের ওপর।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায়, সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল)-এর তত্ত্বাবধানে এবং ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে জাউয়াবাজার তদন্ত কেন্দ্রের একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার (৮ মে) রাত ১টা ২০ মিনিটে ভাতগাঁও ইউনিয়নের ভমভমি বাজার এলাকা থেকে ডাকাত দলের সদস্য মো. আজির উদ্দিন (৩৩) ও মো. হোসাইন আহম্মদ (২২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইশাকপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির সময় ব্যবহৃত একটি রামদা, একটি তলোয়ার, একটি মুখোশযুক্ত হুডি জ্যাকেট এবং লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে নগদ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঠের হাতলযুক্ত প্রায় ২৪ ইঞ্চি লম্বা একটি রামদা এবং ২৩ দশমিক ৬ ইঞ্চি লম্বা একটি তলোয়ার। এছাড়া কালো-লাল রঙের একটি মুখোশযুক্ত হুডি জ্যাকেটও জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

