সিলেট নগরীর দক্ষিণ কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলওয়ার হোসেন (৪০) মারা যান। এর আগে একই ঘটনায় আহত রিপন আহমদ (৩০) শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এতে সংঘর্ষে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুজনে।
পুলিশ জানায়, নিহত দেলওয়ার হোসেন সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের অধীন সিলেট-জকিগঞ্জ মিনিবাস শ্রমিক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অন্যদিকে, নিহত রিপন আহমদের বাবা গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী উত্তর গ্রামের ছাবলু মিয়া দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় ভাঙচুর, মারধর ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজনসহ মোট ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশরাফুজ্জামান জানান, দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সংঘর্ষসংক্রান্ত দুটি মামলারই তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এজাহারে দক্ষিণ সুরমা, মোগলাবাজার, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বিশ্বনাথসহ বিভিন্ন এলাকার অর্ধশত নাম রয়েছে ।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটে আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই দিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি বাস ও টিকিট কাউন্টার ভাঙচুর করা হয় এবং অন্তত চারজন শ্রমিক আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিকেল চারটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ধীরে ধীরে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

