বাণিজ্যমন্ত্রী

১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার

১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে একটি ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। দেশে দৈনিক সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা সৌরশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করা সম্ভব। এর সঙ্গে স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত করা গেলে দিনের বেলায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ সন্ধ্যার পিক আওয়ারেও ব্যবহার করা যাবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে শিল্প খাতে লোডশেডিংয়ের সংকট অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও চলমান জ্বালানি সংকট বিবেচনায় শিল্প খাতে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লটগুলোতে গ্যাসের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে রাইস হাস্ক বা ধানের তুষ ও কয়লা ব্যবহারের একটি রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে একদিকে যেমন শিল্প খাতে বিদ্যুতের চাপ কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।

এ সময় দেশের অর্থনীতিতে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের ভূমিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য এ অবদানকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা। স্বল্প বিনিয়োগে পরিচালনাযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভূমিকা বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে প্রদর্শন ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিসিকের ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পপণ্য দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা নতুন বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি তাদের পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন