সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় মানবপাচারকারী দালালের খপ্পরে পরে ইটালি যাওয়ার জন্য বাড়ি ছেড়ে ছিল ১৩ যুবক। ইটালিগামী যুবকদের স্বপ্নের ইউরোপ আর যাওয়া হলো না। স্বপ্নের ইউরোপ পৌঁছানোর আগেই লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে হয়েছে জিম্মি।
মুঠোফোনে ভিডিও কলে ছেলের আর্তনাদ মা আমাকে বাঁচাও, বাবা আমাকে বাঁচাও, টাকা না দিলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। জায়গা জমি ঘর বাড়ি বিক্রি করে হলেও আমাকে বাঁচাও। আর্তনাদ কারীদের বসতবাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলার ১২ কি.মি. দক্ষিণে ফেনারবাক ইউনিয়ন এর নাজিমনগর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় এই আহাজারি কথা।
নাজিমনগর গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদ(মন্টু) এর স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম, তার ছেলে হুমায়ুন ও জামাতা ভীমখালী ইউনিয়ন এর কলকতখা গ্রামের মৃত আব্দুল বারিক এর ছেলে নজরুল ইসলাম নামীয় আদম বেপারিদের খপ্পরে পরে ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ইটালি যাওয়ার মৌখিক চুক্তি করেন জিম্মিদের পরিবার।
ইটালি যাওয়া যাত্রীরা হলেন, নাজিমনগর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে নিলয় মিয়া (২২), রাশিদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩২), এখলাছ মিয়ার ছেলে আমিনূল ইসলাম(২৫), নূরু মিয়ার দুই ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০) ও জীবন মিয়া (২৫), টুনু মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (২৬), রাশিদ মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৮), ফয়জুন নূরের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪), শহিদ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৭), বাচ্চু মিয়ার ছেলে এনামূল হক (২৬), জলিল মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৯), জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের এর নয়াহালট গ্রামের সামছু মিয়ার ছেলে আবুল হামজা (২৫) ও সাচনা কালীবাড়ি গ্রামের মো. ফুল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম।
তারা গত ২৮ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে আবুধাবি, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়া পৌঁছে। লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্র ২৫ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে জিম্মি করে রাখে। এর মধ্যে নূরু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০) পালিয়ে এলেও লিবিয়ার পুলিশের হাতে ধরা পরে জেলে বন্দী রয়েছে। মাফিয়া চক্র জিম্মি প্রতিজনে মুক্তিপণ ২৬ লাখ টাকা দাবি করে। পরে দর কষাকষিতে ১২ লাখ টাকায় ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে বলে জানায় জিম্মিদের অভিভাবকরা।
বর্তমানে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে জিম্মি থাকা অবস্থায় তারা জানায়, তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। মাফিয়া চক্র ভিডিও কলে সেই নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলছে। ইতিমধ্যে কয়েক পরিবার সন্তানের উপর নির্যাতন না করার জন্য কিছু টাকা বিকাশে পাঠিয়েছেন। অনেকেই জায়গা জমি বাড়ি ঘর বিক্রি করে ও এলকার সুদের মহাজনের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করছেন। মাফিয়া চক্রের হাত থেকে কিভাবে তাদের সন্তানদের উদ্ধার করবেন ভেবে পাচ্ছেন না অভিভাবকরা।
আরো জানা যায়, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়ার হামজা বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান। মাফিয়ার কাছে বিধবা মায়ের আকুতি বাবা আমার কাছে টাকা নাই, আমি ভিক্ষা করে তোমরার টাকা দিব। আমার হামজারে আর মাইরোনা। এভাবেই প্রতিটি পরিবারের মা-বা ও আত্মীয় স্বজনেরা আহাজারি করছেন। আবার অনেকেই আমাদের কাছে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন। কথা বললে যদি মাফিয়া চক্র জানে তাদের সন্তানের উপর নাকি আরও বেশি নির্যাতন করবে। স্থানীয় দালাল চক্র ঘটনার পর বাড়ি থেকে উধাও। কোথাও খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না দালালদের।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বন্দে আলী মিয়া বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

