মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিখোঁজের দুই দিন পর জুনায়েদ মিয়া নামের ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
রেববার (২৯ মার্চ) রাত ৮টার দিকে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাদেআলীসা গ্রামের কামারপাড়া এলাকায় একটি পতিত জমিতে লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত জুনাইদ মিয়া উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের আলীসারকুল গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মো. রমিজ মিয়ার ছোট ছেলে। সে সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাটি উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় জুনাইদ বাড়ির পাশে রাস্তায় বসে মোবাইলে গেম খেলছিল। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অবশেষে রোববার রাতে বাদেআলীসা গ্রামের কামারপাড়া এলাকায় একটি পতিত জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ভাই জুবায়েদ মিয়া বলেন, ‘রোববার দুপুর ১২টার দিকে তার মোবাইল ফোনের ইমো অ্যাপে একটি অজ্ঞাত আইডি থেকে হুমকিমূলক বার্তা আসে। বার্তায় লেখা, ‘আমরা যেদিন রাইত নিছি ওদিন রাইত ছাড়তে আছলাম, তোমার তরুণদের লইয়া হইহুল্লুর করছ। এর লাগি আবার আমার সঙ্গে লইয়া গেছিগি। আজকে রাইত ৩টার সময় মাইরা পালাইমু তোমরা থুকাইও। রমিজ আর রমিজের বউ বেশি বাড়ছে তারার টাকা হইগেছে। এখন জুবায়েদ।’
মেসেজ পড়ে মেসেজের স্ক্রিনশট নিয়ে রাখি। পরে থানায় গিয়ে বলার পরে পুলিশ বাড়িতে যাওয়ার জন্য বলে।
পরে বাড়িতে আসার পর রাত ৮টার দিকে আরেকটি বার্তা আসে, যেখানে লেখা ছিল ‘ওউ আমরা পালাইয়া যাইরাম, পাসবায়।’
মেসেজ পাওয়া পর আমি অনেকবার ফোন দিছি, তারা কল ধরেনি । পরে আমরা খোঁজাখুঁজি করে কামারপাড়ায় আমার ভাইয়ের লাশ পাই।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে নিহতের আত্মীয় রবিন আহমেদ বলেন, নিখোঁজের দিন অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে আমরা থানায় জিডি করতে যাই। কর্তব্যরত পুলিশ আমাদেরকে বলে একটু অপেক্ষা করে দেখতে। না পেলে জিডি করতে।
পরদিন জিডি করার পরও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগ বা জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। আমরা যোগাযোগ করলেও রেসপন্স করেনি। আর এখন মরার পর আসছে তদন্ত করতে।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। আপাতত নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আমাদের তদন্ত চলছে।’
এসপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

