ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় বিএনপি নেতার স্ত্রী, ভাই-চাচাসহ ৯ জন

জেলা প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় বিএনপি নেতার স্ত্রী, ভাই-চাচাসহ ৯ জন

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ধানের কৃষকের তালিকায় বিএনপি নেতা শরীফ উদ্দিনের স্ত্রী, ভাই, চাচাসহ ৯ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা (শরীফ উদ্দিনের চাচা) খেলু মিয়ার নামও।

বিজ্ঞাপন

শরীফ উদ্দিন বানিয়াচং উপজেলার ৩ নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ১২৯ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করে। এর পরই উপজেলাজুড়ে শুরু হয় আলোচন-সমালোচনার।

প্রাপ্ত তালিকায় দেখা যায়, বিএনপির নেতা শরীফ উদ্দিনের স্ত্রী জুলেশা আক্তার রয়েছেন ৬২ নম্বরে, ৯৬ নম্বরে রয়েছেন ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি (শরীফ উদ্দিনের চাচা) খেলু মিয়ার নাম। ৫০ ও ৭৯ নম্বরে শরীফ উদ্দিনের আপন দুই ভাই রুকুম আলী এবং সমশের আলী।

এছাড়া ২৭ নম্বরে রয়েছেন মামাতো ভাই আব্দুর রশিদ, ৩২ নম্বরে রয়েছেন তার আরেক চাচা ইউছুফ আলী, তার আপন ভাগ্নে জিহাদ মিয়া আছেন ৪৮ এবং ১১০ নম্বরে রয়েছে তার (শরীফ উদ্দিনের) বেয়াই তোয়াহিদ মিয়ার নাম।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা প্রশাসন ওই ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুতের সময় সহায়ক ভূমিকায় ছিলেন শরীফ উদ্দিন । আর এ সুযোগে তিনি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বাদ দিয়ে তার স্ত্রী, ভাই ও চাচাসহ ৯ জন নিকটাত্মীয়ের নাম দেন। আর এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মীরা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করার সময় প্রশাসনের সঙ্গে তিনি ছিলেন। এই সুযোগে তিনি নিজের ইচ্ছেমতো আত্মীয়স্বজনের নাম তালিকায় দিয়ে দিয়েছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের এক নেতার নামও দিয়েছেন। একজন নেতার এমন স্বজনপ্রীতি দলের জন্য দুর্নাম বয়ে আনবে।

উপজেলার ৩ নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছামির আলী বলেন, তালিকায় যে এমন স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে, কয়েকজন নেতাকর্মী আমাকে জানিয়েছেন। এরকম কাজের জন্য সাধারণ মানুষ দলকে দায়ী করে।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হোসেন খানকে কয়েকবার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম বলেন, বিষয়টি শুনেছি, তবে কোনো অভিযোগ পাইনি। যেহেতু এখন ঈদের বন্ধ। তাই ঈদের পরে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন