আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে নিমন্ত্রণ পাননি গেজেটভুক্ত দুই জুলাইযোদ্ধা

উপজেলা প্রতিনিধি, ওসমানীনগর (সিলেট)

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে নিমন্ত্রণ পাননি গেজেটভুক্ত দুই জুলাইযোদ্ধা

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় গেজেটভুক্ত দুই জুলাইযোদ্ধা ও বিরোধী জোটের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্যভাবে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি সর্বজনীন জাতীয় দিবসকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে একতরফাভাবে পালনের সমালোচনা উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসন। প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকলেও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ শরিক জোটের কোনো প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে বাছাই করে আমন্ত্রণ প্রদান করেছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ওসমানীনগরে আহত সরকারি গেজেটপ্রাপ্ত দুই জুলাইযোদ্ধাকে নিয়ে। এনামুল হক (গেজেট নং ১৮০) এবং ইব্রাহিম আহমদ (গেজেট নং ৩৩৬)—এই দুইজনকেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এছাড়া উপজেলায় অনেক জীবিত মুক্তিযোদ্ধা থাকলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফতাব আহমদসহ মাত্র তিনজন মুক্তিযোদ্ধা।

জুলাই যোদ্ধা এনামুল হক অভিযোগ করে বলেন, পূর্ববর্তী ইউএনওরা তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করলেও বর্তমান ইউএনও মুনমুন নাহার আশা যোগদানের পর থেকে উপজেলার প্রায় সব সরকারি অনুষ্ঠানেই তাদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু এখনো আমরা সেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।

একই অভিযোগ করেন জুলাইযোদ্ধা ইব্রাহিম আহমদ। তিনি জানান, এই ইউএনও যোগদানের পর প্রথম দিকে কিছু অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেও বর্তমানে আর ডাকা হচ্ছে না।

এদিকে, মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবস ‘দলীয়করণ’ করে উদযাপনের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ১০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপির)- উপজেলা শাখার সদস্য সচিব মনিরুল হক সাকিব। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি সর্বজনীন ও গৌরবময় জাতীয় দিবসকে সংকীর্ণ দলীয় বলয়ে আবদ্ধ করে ফেলা অত্যন্ত হতাশাজনক। এমন আয়োজনের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন নিরপেক্ষতার চেয়ে ক্ষমতাসীনদের সন্তুষ্টি অর্জনকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।

একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি শুয়াইব আহমদ। তিনি বলেন, আমাদের মতো শরিক দলগুলোকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় দিবসে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত ছিল।

উপজেলা জামায়াতে আমির মোহাম্মদ সোহরাব আলী জানান, উপজেলা প্রশাসন দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে আমাদের পরিকল্পিতভাবে মাইনাস করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার বক্তব্য জানতে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি খুদে বার্তা পাঠানো হলে তিনি বার্তাটির কোনো বক্তব্য দেননি।

এছাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে দিবসটি পালনে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা থাকলেও কোনো ইউনিয়নে দিবস পালনের দৃশ্য দেখা যায়নি। সার্বিকভাবে মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি জাতীয় দিবস ঘিরে অবহেলা, বিতর্ক এবং বাছাই করে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অভিযোগ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...