টানা বৃষ্টিতে হাওরজুড়ে ডুবছে পাকা ধান, দিশেহারা কৃষকরা

উপজেলা প্রতিনিধি, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ)

টানা বৃষ্টিতে হাওরজুড়ে ডুবছে পাকা ধান, দিশেহারা কৃষকরা

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন হাওরে টানা বৃষ্টিতে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া, শ্রমিক সংকট ও বাজারের অস্থিরতায় কৃষকদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হতাশা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে হাওরের বিস্তীর্ণ জমিতে পানি জমে ধান ডুবে গেছে। চোখের সামনে কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট হতে দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই সময়মতো ধান কাটতে না পারায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কৃষকরা জানান, একদিকে তীব্র শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে জ্বালানি তেলের অভাবে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দ্রুত ধান কাটার কোনো কার্যকর উপায় পাচ্ছেন না তারা। এর ওপর টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, আড়ৎদার ও ফড়িয়ারা সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমিয়ে দিচ্ছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৪৪০ টাকা হলেও বর্তমানে বাজারে তা ৭০০ টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথী জানান, শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় চাহিদা জানানো হয়েছে। দ্রুত ধান কাটার জন্য চা-বাগান এলাকা থেকে শ্রমিক এনে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অলক কুমার চন্দ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৩ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৫৮ মেট্রিক টন। তবে টানা বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে প্রায় ২ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার ২৬২ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ফসলহানির মুখে পড়তে পারেন তারা।

হাওরাঞ্চলের এই দুরবস্থা কৃষি খাতে সম্ভাব্য ক্ষতির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং কৃষকদের পাশে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...