ওসমানীনগরে বজ্রপাতে ১৫ ট্রান্সফরমার নষ্ট, কালবৈশাখীতে ব্যাপক ক্ষতি

উপজেলা প্রতিনিধি, ওসমানীনগর (সিলেট)

ওসমানীনগরে বজ্রপাতে ১৫ ট্রান্সফরমার নষ্ট, কালবৈশাখীতে ব্যাপক ক্ষতি
ছবি: আমার দেশ

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় চলমান কালবৈশাখীতে বজ্রপাত ও টানা ভারী বর্ষণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সড়ক যোগাযোগ ও জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা।

উপজেলা বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালবৈশাখী ঝড়ে ওসমানীনগর উপজেলায় ১২টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে, প্রায় ১০০টি বৈদ্যুতিক মিটার নষ্ট হয়েছে এবং অন্তত ১০০ স্থানে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাতে প্রায় ১৫টি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম দিনের ঝড়ে কাশিকাপন উপকেন্দ্রের ৫-ই ফিডারের ব্যাকবোন লাইনে বড় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে। এছাড়া উপকেন্দ্রের ১-এ ফিডারের তিন ফেজ লাইনের ওপরও গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে অব্যাহত ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে। ডালপালা ভেঙে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় উপজেলার বহু এলাকায় গত তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল না। চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির ক্ষীণ আলোতে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা।

ক্ষতিগ্রস্ত লাইন অপসারণ ও মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।

তাজপুর বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল আজম বলেন, নিয়মিত লোডশেডিং এখন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে গেছে। মন্দা অর্থনৈতিক অবস্থায় আমরা ব্যবসায়ীরা এমনিতেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছি না। এর মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাট আমাদের আরও হতাশ করেছে।

কাশিকাপন অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী নাঈমুল হাসান জানান, প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, আজ বিকেলের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যাবে।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় আংশিকভাবে প্রায় ৩০ হেক্টর এবং সম্পূর্ণভাবে ৮ হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে উমরপুর ইউনিয়নকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, কৃষি অফিসের হিসাবের চেয়েও দ্বিগুণ জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার উম্মে তামিমা জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে। নিমজ্জিত এলাকাগুলোতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনাগত ঘাটতির কারণে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে মহাসড়কসংলগ্ন বাসাবাড়িতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে অকাল বন্যার রূপ নিচ্ছে।

উপজেলার বাজার ও বিভিন্ন এলাকার অনেক স্থায়ী ড্রেন প্রভাবশালীরা ভরাট করে ফেলায় অল্প বৃষ্টিতেই বেশ কিছু গ্রাম, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট হাঁটুপানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...