সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার আনারস স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে সারা দেশে। আনারস জ্যৈষ্ঠ মাসের সুস্বাদু একটি রসালো ফল। এই ফল মূলত জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে পাকতে শুরু করে। গরমের সময় হওয়ায় এই ফল বেশি দিন রাখা সম্ভব হয় না।
সরেজমিনে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর মাইজগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জাপুর গ্রামে দেখা যায় টিলায় টিলায় আনারস পেকে আছে। এই এলাকায় ফসলের চাষাবাদ বেশি। টিলা এলাকা হওয়ায়, সবাই কমবেশি চাষাবাদ করে থাকেন। তাপমাত্রা বেশি থাকায়, একসঙ্গে সব ফল পেকে লাল হয়ে আছে। স্থানীয়ভাবে পাইকারদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। বাকিটা শহরের আড়তে পাটানো হচ্ছে । নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা বিক্রি করে থাকেন। এছাড়াও হাঁটুভাঙ্গা ও ঘিলাছড়ায় কিছু আনারস হয়ে থাকে। ভালো ফলন হলে, এক একটি আনারস স্থানীয়ভাবে ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। ভরা মৌসুমে ফল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার না থাকায়, পাকা অনেক ফল গাছে নষ্ট হচ্ছে।
বাগান মালিক স্বপন চৌধুরী বলেন, এবার দীর্ঘসময় বৃষ্টি না হওয়ায়, ফসল কম এসেছে। বৃষ্টি সময়মতো না হওয়ায় ফল বড় হয়নি । বাগানে লাভ হবে না এবং সব ফল পেকে গেছে, তাই দাম নেই। বাগান মালিকরা জানান, সিলেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আনারস রপ্তানি হয়ে থাকে ফেঞ্চুগঞ্জের মির্জাপুর গ্রাম থেকে। তাই তাদের দাবি জাতীয় স্বার্থে সরকার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একটি হিমাগার স্থাপন করলে, এই উপজেলার মানুষ স্বল্প সময়ের ফসল রাখতে পারত। তারাও লাভবান হতো, সরকারও লাভবান হতো। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার সুব্রত দেবনাথ বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জে আনারস বেশ ভালো হয়। এবার দীর্ঘসময় বৃষ্টি না হওয়ায়, ফসলের মুকুল আসতে দেরি হয়। সেজন্য ফল কম ও ছোট রয়েছে। যার ফলে চাষিরা ও বাগান মালিকরা পর্যাপ্ত দাম পাচ্ছেন না। আমরা সবসময় তাদের পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকি। আশা করি সরকার কোল্ড স্টোরেজের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


উদ্বোধনের আগেই বৃষ্টিতে ভেঙে গেল সংযোগ সড়ক