ঠিকাদারের কাছে জিম্মি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, লিজ দিলেন প্রধান শিক্ষক

উপজেলা প্রতিনিধি শাল্লা (সুনামগঞ্জ)

ঠিকাদারের কাছে জিম্মি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, লিজ দিলেন প্রধান শিক্ষক

সুনামগঞ্জের শাল্লায় গিরিধর উচ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠটি ঠিকাদারকে অবৈধ লিজ দিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক। সংস্কার করে দেওয়ার শর্তে ২০২২ সালে মাঠটি দিরাই-শাল্লা মহা সড়কের ঠিকাদারকে লিজ দেওয়া হলেও এখনো মাঠটি সংস্কার করে দেননি ঠিকাদার। এ নিয়ে ১৪ জন অভিভাবক ও গন্যমাণ্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষরে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক এলাকার কয়েকজনের সাথে সিন্ডিকেট করে ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাঠটি ঠিকাদার অবৈধভাবে লিজ দিয়ে দেয়। ঠিকাদার মাঠে ইট, বালু,পাথর ও বিভিন্ন মালামাল রাখার ফলে মাঠে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ দীর্ঘদিন সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মাঠটি ঠিকাদারের কাছ থেকে দখল মুক্ত হলেও এখনো সংস্কার করে দেওয়া হয়নি। ফলে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। মাঠটি সংস্কার করে দেওয়া সহ ওই বিদ্যালয়টির নানা ধরনের সমস্যা, অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকার অভিভাবক ও সচেতন মহলের লোকজন। সেই সাথে মাঠটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগকারী ও গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী সুব্রত দাশ বলেন, গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি আজও ঠিকাদার সংস্কার করে দেয়নি। যা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে বারবার হেডস্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি, কিন্তু হেডস্যারের কথাবার্তা শুনে বরাবরের মতো আমরা হতাশ হয়েছি। মাঠে বালু-পাথর রাখা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। গত বছরের জুন মাসে ভিটবালু ফেলে মাঠ সংস্কার করে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেওয়া হয়নি। মাঠটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী।

মাঠ সংস্কারের বিষয়ে দিরাই-শাল্লা মহাসড়কের দায়িত্বে থাকা কালবাবু দাস বলেন, আমরা প্রথমধাপে মাঠটি নিলেও দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ লাশ টাকার বিনিময়ে মাঠটি আমাদেরকে মালামাল রাখার জন্য আবারো দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে মাঠটি আমাদেরকে দেওয়া হয়নি আর মাঠটি সংস্কারও করা হয়নি। তিনি বলেন, প্রধান ঠিকাদারের সাথে মাঠটি সংস্কারের বিষয়ে কথা বলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনন্দ মোহন চৌধুরী বলেন, যখন মাঠটি দেওয়া হয়েছে তখন আমার মা মারা গিয়েছিল। আমি তখন স্টেশনে ছিলাম ন। তারপরও ঠিকাদারের সাথে কথা বলেছি তারা জানিয়েছিল ঈদের পরেই মাঠটি সংস্কার করে দিবে। আগামী সোমবারে ঠিকাদারকে নিয়ে বসা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রথম বিষয়টি জানলেও এখন আর কিছু জানি না। তারপরও খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন হলে আমি যাবো।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...