সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা ডাইকের ওপর অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু পুনর্নির্মাণে স্থানীয় কয়েকজন ভূমি মালিকের বাধার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় এলাকায় জলাবদ্ধতা, ফসলহানি ও জনদুর্ভোগ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের করচারপাড় গ্রামের আব্দুল বাড়ির সংলগ্ন কুশিয়ারা ডাইকের ওপর পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত পুরোনো সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও অকার্যকর অবস্থায় ছিল। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এবং টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তবে স্থানীয় কয়েকজন ভূমি মালিক নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি।
এ ঘটনায় শতাধিক গ্রামবাসীর পক্ষে আব্দুল জলিল গত ১০ অক্টোবর ২০২৫ সালে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দ্রুত সেতুর কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে চলতি কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি বসতবাড়ি, পঞ্চায়েতি কবরস্থান, পাঞ্জেগানা মসজিদ, জামে মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এলাকায় খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসন জানায়, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান যোগদানের আগেই এ সংক্রান্ত একটি আবেদন করা হয়েছিল। পরে আবেদনকারীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বালাগঞ্জ-শেরপুর সড়কের দুপাশে ব্যক্তিগত জমি রয়েছে এবং সেখানে আগে থেকেই একটি ছোট কালভার্ট ছিল। পানির প্রবল স্রোতে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে একই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডি প্রকল্প গ্রহণ করে।
তবে স্থানীয় কিছু জমির মালিকের দাবি, পুরোনো সেতু নির্মাণের পর থেকে পানির অতিরিক্ত প্রবাহে দুপাশের জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং জমি খালের মতো হয়ে যায়। আবার সেতু বন্ধ থাকলে অন্যপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ দ্বিমুখী সমস্যার কারণেই সেতু নির্মাণকাজ আটকে আছে।
উপজেলা প্রশাসন আরও জানায়, কয়েকদিন আগে কোনো অনুমতি ছাড়াই জমির মালিকেরা সেতুর দুপাশ ভরাট করে ফেলেন। বিষয়টি জানার পর ইউএনও দ্রুত সহকারী কমিশনারকে ঘটনাস্থলে পাঠান। কর্মকর্তার উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সরে যান। পরে ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরেও চিঠি পাঠানো হয়।
প্রশাসনের মতে সেতুর কারণে যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, সেখান থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে পিংলাকুলার খাল ও করচার খাল নামে দুটি খাল রয়েছে। এর মধ্যে করচার খালটি বেশ প্রশস্ত হলেও কুশিয়ারা নদীর পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে এবং অবৈধ দখলেও রয়েছে। খালটি পুনঃখনন করা হলে এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে দূর হবে। তাই খাল খননের একটি প্রস্তাবনাও ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ মিটার খনন করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাগবে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন,এলাকাবাসী দুর্ভোগ লাগব ও জমি মালিকদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সেতু নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

