৬ কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমবায় সমিতি, দিশেহারা ভুক্তভোগীরা

উপজেলা প্রতিনিধি, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ)

৬ কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমবায় সমিতি, দিশেহারা ভুক্তভোগীরা

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় প্রায় ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন ‘মধ্যনগর রূপসী বাংলা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সমবায় সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ২০২২ সালে জেলা সমবায় অফিস থেকে নিবন্ধন নিয়ে মধ্যনগর বাজারে কার্যক্রম শুরু করে সমিতিটি। স্থানীয়ভাবে কর্মী নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন নেত্রকোনার সদর উপজেলার ১০নং রৌহা ইউনিয়ের কুমরী গ্রামের হাফেজ এরশাদুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও মধ্যনগরের স্থানীয় বাসিন্দা ডাক্তার স্মৃতিভূষন করের ছেলে অমিয় ভূষণ কর (মন্টু। শুরু থেকেই তারা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে অস্বাভাবিক উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডিপিএস ও সঞ্চয় সংগ্রহ করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, নানা কৌশলে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহের পর প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ করেই গা ঢাকা দেন সমিতির দুই মালিক। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ মিলছে না। টাকা ফেরতের আশায় রোববার বিকেলে প্রতারিত গ্রাহকরা মানববন্ধন করে দ্রুত অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রতারিতদের মধ্যে মধ্যনগর বাজারের সেলুনকর্মী শক্তি ঋষি জানান, জীবনের সব সঞ্চয় ৯ লাখ টাকা জমা রেখে এখন তিনি নিঃস্ব।টাকা ফেরৎ না পেলে তার বাচার পথও থাকবে না বলে তিনি জানান।

লাকী তালুকদার বলেন,বাবার মৃত্যুর পরে বোনের বিয়ের জন্য জমানো ২ লাখ এই সমিতিতে জমা রেখেছিলেন। ৬ মাস আগে টাকা আনতে কয়েকবার গেলেও টাকা ফেরত না পেয়ে উল্টো রফিকের হুমকির শিকার হয়েছেন তিনি। এখন বোনকে নিয়ে চরম বেকায়দায় পরেছেন।

ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান, তার মাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা জমা করতে আকৃষ্ট করেন প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী মন্টুভূষণ কর।তিনিও এই সমিতিতে প্রতিদিন পাঁচশো করে জমিয়ে ২ লাখ টাকা সঞ্চয় করেছিলেন। তার পরিবারের জমানো মোট ১২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে এনজিওটি। এখন ব্যবসা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

এছাড়াও ব্যবসায়ী জুয়েল রায় ২৭ লাখ, কবি আকিকুর রহমান ১০ লাখ, শিক্ষক সমীরণ তালুকদার ৮ লাখ, ব্যবসায়ী চয়ন সরকার ৮ লাখ, প্রবীর তালুকদার ৬ লাখ, সাগর রায় ৮ লাখ, বিধুভূষণ রায় ২ লাখ, বুলুরায় ৬ লাখ, মৃদুল সরকার ৪ লাখ, সুজিত রায় ২ লাখ, অমল সরকার ৫ লাখ, জীবন চক্রবর্তী ৩ লাখ, দুলু দত্ত ১০ লাখসহ পাঁচশতাধিক গ্রাহক তাদের সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মধ্যনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো.আবুল বাশার বলেন, এলাকার বহু মানুষ এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আমরা প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মন্টুভূষণ করকে না পেয়ে তার ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি আমাদেরকে কোন সদুত্তর দেননি। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেব।

তিনি আরো জানান, একই এলাকায় ‘পল্লীবন্ধু’ নামে আরেকটি এনজিও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেই-দিচ্ছি বলে ঘুরাচ্ছে এমন অভিযোগও আছে। এসব এনজিও গুলোকে কঠোর নজরদারির আওতায় নিতে আমি প্রশাসন সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ বিষয়ে মধ্যনগর সমবায় কর্মকর্তা মো. শামছুল ইসলাম বলেন, সমিতিটি সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। এরপর তারা গোপনে কার্যক্রম চালালেও সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...