রাবি উপাচার্য

জুলাইকে কুক্ষিগত করতে চাওয়া গোষ্ঠীরা আ. লীগের মত শেষ হয়ে যাবে

জুলাইকে কুক্ষিগত করতে চাওয়া গোষ্ঠীরা আ. লীগের মত শেষ হয়ে যাবে

“গত ১৭ মাস সুবিধা নিয়েছেন আর আজ আমরা যারা এখানে আছি, আমাদের সঙ্গে রাস্তার কুকুরের মতো আচরণ করা হয়েছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে, এটা আমার জানা ছিল না। আর জাতীয়তাবাদী দলকে নিয়ে যে নোংরা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো মনে পড়লে রক্ত গরম হয়ে যায়।”

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাবেক প্রশাসনকে উদ্দেশ করে এই মন্তব্য করা হয়। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আজ আমাদের ফ্যাসিবাদের দোসর বলে ট্যাগ দেওয়া হয়। কত বড় সাহস! জুলাইয়ের পর একটি গোষ্ঠী বলেছিল, মক্কা বিজয়ের পর মহানবী (সা.) সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, তাই তারাও ফ্যাসিবাদীদের ক্ষমা করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা কখনোই ফ্যাসিবাদীদের ক্ষমা করব না।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “জুলাই নিয়ে আমার এমন কিছু স্মৃতি আছে, যা আমি কাউকে বলিনি। আমার মনে হয়, এখন সেগুলো বলা উচিত। খুন, গুম ও হত্যার সংস্কৃতির কারণেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু জুলাই-পরবর্তী সময়ে একটি গোষ্ঠী আবারও এমন একটি ন্যারেটিভ দাঁড় করাতে চাচ্ছে, যা কখনোই কাম্য নয়। ১৯৭১-কে কুক্ষিগত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ যেমন শেষ হয়ে গেছে, জুলাইকে কুক্ষিগত করতে চাওয়া গোষ্ঠীরও একদিন একই পরিণতি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অতীতেও কারও সঙ্গে আপস করিনি, বর্তমানেও করব না। আন্দোলন কার্যকর করতে যে সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল, আমি নিজেই তা করেছি। আমি আন্দোলনকারীদের বলেছিলাম, তোমরা কখনো রাজপথ ছেড়ে যেও না। আন্দোলনের সময় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা আমাকে হুমকি দিয়েছিল। তখন আমার স্ত্রী আমার হাত ধরে কেঁদে বলেছিল, তোমার কিছু হয়ে গেলে আমাদের পরিবারের কী হবে। তখন আমি বলেছিলাম, এই যে রাস্তার বাচ্চারা মরছে, এটা দেখে কীভাবে আমি ঘরে থাকি? তখন সে বলেছিল, তাহলে তো আর বলার কিছু নাই।”

উক্ত অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আব্দুল আলিম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মো. মামুনুর রশীদ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করেন ড. মো. গোলাম সাদিক। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন