হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত, কালবৈশাখী ঝড় এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রায় ৩৪০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান, যা হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রধান অর্থকরী ফসল এবং সারা বছরের জীবিকার অন্যতম ভরসা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রায় ১১ হাজার হেক্টরের বেশি জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেক জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, আবার অনেক জায়গায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এতে হাজার হাজার কৃষক বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হলেও অবশিষ্ট জমির একটি বড় অংশ আকস্মিক বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে দিনে দিনে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার হাওরাঞ্চল। বানিয়াচং উপজেলার খোয়াই নদীর বাঁধ এবং বাহুবল উপজেলার করাঙ্গী নদীর বাঁধ ভেঙে নতুন করে পানি প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হতাশা।
কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে প্রায় ২১ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে। তবে স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও বেশি। পানি দ্রুত না নামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

