ঝলমলে রোদে হাওরে স্বস্তির নিঃশ্বাস

জসীম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ

ঝলমলে রোদে হাওরে স্বস্তির নিঃশ্বাস

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বর্ষণে হাওরাঞ্চলে ফসলি জমি ডুবে যাওয়ার পর অবশেষে রৌদ্রস্নাতে ভরে উঠেছে সুনামগঞ্জের আকাশ। এমন আকাশ পেয়ে ধান কাটা ও শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ঝলমলে রোদে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলেন তারা।

বিজ্ঞাপন

জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধরের পাড়ের খরচার হাওরের সমিরন শর্মা বলেন, আমি ৭ কেদার বোরো জমি কেটেছি। আরো ৫ কেদার জমি পানির নিচে। ৪ আনা ধানে অঙ্কুর এসেছে। টানা কদিন রোদ দেওয়ায় বাকি ধান শুকাতে পেরেছি। শ্রমিকের মজুরি বেশি, তাই লাভ কম। বরং লোকসানে আছি।

হাওরের আরেক কৃষক শিপন জানান, ৬ কেয়ার জমির ধান কেটেছি। রোদে শুকাতে না পারায় অর্ধেক ধানে পচন ধরেছে। পচা ধানও শুকাচ্ছি। হাঁসের খাবারের জন্য বিক্রি করব। রোদ না উঠলে সব ধান নষ্ট হয়ে যেত। কৃষি পেশা করে লাভ নেই। বিকল্প কিছু এখন থেকেই ভাবছি।

আরিতোষ বর্মন জানালেন, ১০ কেদার জমি কেটেছি। ৪ কেদার জমির ধানে অঙ্কুর এসে নষ্ট হয়ে গেছে। রোদে ধান শুকাচ্ছি। অঙ্কুর ধানগুলো আলাদা করে বস্তায় রেখে হাঁসের খামারিদের কাছে বিক্রির জন্য রেখে দিয়েছি। এক কেদার জমিতে যে পরিমাণ খরচ হয়, শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছি।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, খরচার হাওরে ৩ হাজার হেক্টর জমি আবাদ করা হয়েছে। বেশির ভাগ ধান কাটা হয়েছে। কিছু ধান বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। রোদ ওঠায় কৃষকেরা এখন স্বস্তিতে আছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক জানান, হাওরে কৃষকেরা দ্রুতগতিতে ধান কাটছেন। ভেজা ধান রোদে শুকানো হচ্ছে। কৃষকেরা অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করছেন। আমরা সব সময় কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দিচ্ছি।

জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) সমর কুমার পাল বলেন, হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা শুরু হয়েছে। গতকাল বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৪০০ কৃষককে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ সহায়তা প্রতিটি উপজেলায় দেওয়া হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন