বস্ত্রশিল্পে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সুরক্ষায় নীতিসহায়তা চায় বিটিএমএ

বস্ত্রশিল্পে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সুরক্ষায় নীতিসহায়তা চায় বিটিএমএ

দেশীয় বস্ত্রকলগুলোতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, উৎপাদন সক্ষমতা ও কর্মসংস্থানের সুরক্ষায় সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিসহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। এরই অংশ হিসেবে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন (তুলা) সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে সুতা আমদানির ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা এবং স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়াতে একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিকাঠামো প্রণয়নের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বিটিএমএ।

বিজ্ঞাপন

রোববার সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। বিশেষ করে স্পিনিং শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও কর্মসংস্থান রক্ষার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দামে কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই এ-সংক্রান্ত যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্তে উভয় শিল্পের স্বার্থ সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার মানে আমদানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা নতুন করে শুল্ক-কর আরোপ নয় উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আদেশ অনুযায়ী প্রযোজ্য শুল্ক-কর বা সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আমদানির সুযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থার ফলে বৈধ আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, স্থানীয় বাজারে অননুমোদিতভাবে পণ্য বিক্রি এবং রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক আমদানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানির প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা না দিলে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী গ্যারান্টি নগদায়নের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। অন্যদিকে, রপ্তানি সম্পন্ন হওয়া এবং নিয়ম অনুযায়ী রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের তথ্য যাচাই করে গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বহুগুণ বেড়ে যাবে।

দেশীয় স্পিনিং শিল্পের বর্তমান দুরবস্থার প্রসঙ্গ তুলে বিটিএমএ জানিয়েছে, এ খাতের উৎপাদন ও আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলে বর্তমানে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ থাকা স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলো পুনরায় চালু করা যেতে পারে। এতে বিদ্যমান কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ব্যাংকঋণ পুনরুদ্ধার ও খেলাপি ঋণের চাপ কমাতেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

দেশীয় ও আমদানি করা সুতার দামের তুলনা এবং ভারত ও মিসরসহ বিভিন্ন দেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থানান্তরের দাবিগুলো নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বিটিএমএর মতে, সুতার প্রকৃত ক্রয়মূল্য নির্ধারণে পণ্যের মান ও বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংক চার্জ, অর্থায়ন ব্যয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশের ক্ষেত্রে সুতার দামের পাশাপাশি পণ্যের মান, উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নীতিগত প্রস্তাবে বিটিএমএ নন-বন্ডেড শিল্পের ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পরবর্তী সময়ের প্রস্তুতি হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধান, উৎপত্তির নিয়ম (রুলস অব অরিজিন) এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে টু-স্টেজ ট্রান্সফরমেশন শর্ত বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন অর্জনের উপযোগী একটি আধুনিক নীতিকাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

বিটিএমএ পরিশেষে বলেছে, দেশীয় স্পিনিং ও তৈরি পোশাক শিল্প পরস্পরের পরিপূরক। সুতরাং এক খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্য খাতের কাঁচামাল প্রাপ্তি ও রপ্তানি সক্ষমতা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন