সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়পত্র কেনার আগ্রহ বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এই বিক্রি গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ের নিট বিক্রির প্রায় চার গুণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকা। আর গত অর্থবছরের জুলাইয়ে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা।
নিট বিক্রি বলতে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের সুদ-আসল পরিশোধের পর অবশিষ্ট যে টাকা তাকে বোঝায়।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, গত জুনে ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের মধ্যে সীমা বেঁধে দেওয়ার পর ভালো ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার কমাতে শুরু করেছে। বর্তমানে এসব ব্যাংকে আমানতের সুদহার প্রায় ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। সব মিলিয়ে মানুষ সঞ্চয়পত্রের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ফলে নিট বিক্রি বেড়েছে।
সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত জুলাই শেষে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার সাধারণত ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।
পরে বিএনপি সরকার সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে। ওই অর্থবছরে মোট ৯২ হাজার ৬১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর বিপরীতে সুদ-আসল বাবদ সরকারকে পরিশোধ করতে হয়েছে ৯২ হাজার ৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু মুনাফা বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা আরও কমিয়ে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সঞ্চয়পত্রে সর্বশেষ মুনাফার হার
চলতি বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তিতে ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।
৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

