গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আগস্টে যার পরিমাণ ছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে আগস্টের তুলনায় রেমিট্যান্স ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। তবে বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৩ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং ওই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। বিশেষ করে নতুন কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার হার কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহে এর প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে ভিসা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ির কারণে নতুন কর্মী যাওয়ার গতি কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়াও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলছে।
বিএমইটির তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন কর্মী বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। গত বছরের একই ছয় মাসে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৮ জন। চলতি বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বিদেশে পাড়ি দেওয়া শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ২ লাখ ৯ হাজার ১১ জন। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বৈধ চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার ও সরকারের নগদ প্রণোদনা রেমিট্যান্সকে এখনো উৎসাহিত করছে। ফলে মাসভিত্তিক প্রবাহ কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
টানা চার মাস ধরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। জুলাই ও জুন মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল যথাক্রমে ২৮৬ কোটি ও ২৮২ কোটি ডলার। তবে এর আগে টানা ছয় মাস দেশের প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলার বা তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টানা চার মাস প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকলেও এটিকে এখনই বড় ধরনের পতন বলা ঠিক হবে না। কারণ, জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—চার মাসেই প্রবাসী আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি এসেছে। বরং কয়েক মাসের অস্বাভাবিক উচ্চ প্রবাহের পর প্রবাসী আয় এখন কিছুটা স্বাভাবিক বা মৌসুমি পর্যায়ে ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন তারা।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
গতকাল বুধবার মুদ্রানীতি ঘোষণায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, স্বস্তির বিষয় হলো রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈদেশিক খাতে কিছুটা সহায়তা দিয়েছে। তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হারও আমদানি করা পণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

