কাজের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

কাজের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ফাইল ছবি

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট রয়েছে স্বীকার করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে এ আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।

একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়াই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় ডিএসই টাওয়ারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক ও হোসাইন সাদাত এবং ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

ফ্লোর প্রাইসের কারণে মরগ্যান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল (এমএসসিআই) বাংলাদেশের সূচক স্থগিত করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছি। এর ফলে মরগ্যান স্ট্যানলি আগামী নভেম্বর থেকে তারা আবার এটাকে চালু করবে বলে জানিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএসইসি ও ডিএসইর সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা এআইভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

মাসুদ খান বলেন, প্রত্যেকটা বন্ড শেয়ারবাজারের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হতেই হবে এবং আগামী এক বছরে মেইন বোর্ডে অনেক বন্ড তালিকাভুক্ত হবে।

ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশন নিয়ে কাজ প্রায় শেষ হয়েছে জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, কমিশনের বৈঠকে অনুমোদনের পর এটি জনমত গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে। ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বিএসইসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, একটি কোম্পানি চাইলে তার নির্দিষ্ট অংশ আইপিওর মাধ্যমে এবং আরেকটি অংশ ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বাজারে ছাড়তে পারবে। এ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বোর্ডের সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান তিনি।

সিকিউরিটিজ অ্যাক্টের ২০এ ধারার উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনস্বার্থে কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। এ ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি’ কী তা নির্ধারণ করে একটি বিধি প্রণয়ন করা হবে।

স্ক্রিপ্ট নেটিং ও টি+১ চালুর কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল এবং বিদেশি কাস্টডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাই দ্য অ্যান্ড অফ দ্য ইয়ার আমাদের টি+১ এ যাওয়ার একটা চেষ্টা আমাদের থাকবে।

চট্টগ্রাম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, শেয়াবাজারে নতুন কোম্পানি ও বন্ড তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ছিল উচ্চ লিস্টিং ফি। নতুন ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে ডিএসই বোর্ড সম্প্রতি এই ফি সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকায় বেঁধে দিয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে যারা আইপিও বা ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করবে, তারা এই নির্ধারিত ফি-র ওপর আরো অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার বলেন, ডিএসই ও বিএসইসি অত্যন্ত সমন্বিতভাবে বাজারের উন্নয়ন ও গভর্নেন্স জোরদারে কাজ করছে। বাজারে ভালো আইপিও আনা, ফ্রি মার্জিন, সিসি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং আগামী ৫ বছরের স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় কাজ চলছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন