রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বর্ষার প্রভাব এবং সরবরাহ সংকটের অজুহাতে শাক-সবজি ও চালের বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্বস্তি।
গতকাল শনিবার কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও শান্তিনগরের মতো বড় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। ২৮০-৩০০ টাকার সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, প্রচণ্ড গরমের কারণে খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। অনেক খামারি লোকসান এড়াতে মুরগি পূর্ণবয়স্ক হওয়ার আগেই বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা আব্দুল হাকিম মানিক আমার দেশকে বলেন, খামার ও পাইকারি পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বিক্রিতেও। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে অনেকে খামারে নতুন করে ব্রয়লার মুরগি তোলা হয়নি। আবার অনেকে লোকসান এড়াতে মুরগি কিছুটা বড় হতেই বিক্রি করে দিয়েছেন। এ কারণে সৃষ্ট সরবরাহ সংকট থেকে দাম বেড়েছে।
চালের বাজারেও দীর্ঘমেয়াদি অস্বস্তি রয়ে গেছে। টিসিবির তথ্যমতে, এক মাসের ব্যবধানে নাজিরশাইল ও মিনিকেটের মতো সরু চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৮৫ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা পোলাওয়ের চালের ক্ষেত্রে; গত এক মাসে কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে তা এখন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি করলেও খুচরা পর্যায়ে দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।
চাঁদপুর রাইস এজেন্সির বাচ্চু মিয়া বলেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খুচরা বাজারে ২-৩ টাকা উঠানামা করছে।
বর্ষা মৌসুমের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। বেগুন ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা মরিচের ঝাঁজ এখনো কমেনি, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। পটল, ঝিঙে ও চিচিঙ্গার মতো সবজি কিছুটা সরবরাহ বাড়ায় ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অন্যান্য শাক-সবজির দামও কিছুটা বাড়তি লক্ষ্য করা গেছে। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, আলু ও পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক সহনশীল। আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
নয়াবাজারের সবজি বিক্রেতা মোস্তাকিম বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় সরবরাহ কমে সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে।
মাংসের বাজারেও ক্রেতারা চাপের মুখে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১৩৫০ টাকা কেজি দরে স্থিতিশীল থাকলেও তা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ইলিশ মাছের সরবরাহ কম থাকায় এর দাম আকাশচুম্বী। এছাড়া ডাল ও চিনির মতো নিত্যপণ্যও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৃষ্টির কারণে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটা এই অস্থিরতার অন্যতম কারণ। তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা আবুল হাশেম আক্ষেপ করে বলেন, সবজির দাম কোনোমতে নাগালের মধ্যে থাকলেও চাল ও মুরগির দাম বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের আমার দেশকে বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও কিন্তু তদারকি সংস্থাগুলোও এক প্রকার নিশ্চুপ থাকছে। নিম্নআয়ের মানুষের ত্রাহি অবস্থা। এ পরিস্থিতিতে বাজারে সরকারের নজরদারি জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

