উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় করপোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘বিজিএমইএ কাপ ২০২৬’-এর ট্রফি উন্মোচন, ‘বিজিএমইএ-বাফুফে অংশীদারিত্ব উদযাপন’ এবং মেগা অকশন অনুষ্ঠান হয়েছে। ১৬টি দলের এই অকশনের মধ্য দিয়ে আগামী ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার সূচনা করল বিজিএমইএ। একই সঙ্গে ফুটবল উন্মাদনায় শরিক হলো পোশাকশিল্প পরিবার।
শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম দুই প্রতিষ্ঠানের নেতাদের নিয়ে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে ‘বিজিএমইএ কাপ ২০২৬’-এর ট্রফি উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধান অতিথি ও সভাপতি মহোদয়ের হাতে বিশেষ জার্সি তুলে দেন বাফুফে সহসভাপতি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, সাবেক পরিচালক মো. ইমরানুর রহমান এবং স্পোর্টস কমিটির চেয়াম্যান মো. সাজ্জাদ আলী খান, সাসটেইনেবল এনার্জি কমিটির চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান সাপুসহ বিজিএমইএর বিভিন্ন কমিটির সদস্য ও পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিএমইএর মহাসচিব মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. সাহেদুল ইসলাম।
আয়োজনের শুরুতে বিজিএমইএর পরিচালক ও স্পোর্টস কমিটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ শাহ রাঈদ চৌধুরী বিজিএমইএ ও বাফুফের সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন। এ ছাড়া তিনি নারী পোশাক কর্মীদের নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ ওভিসি (অনলাইন ভিডিও কমর্শিয়াল) প্রদর্শনীও উপস্থাপন করেন, যেখানে শ্রমিকদের নিপুণ কর্মদক্ষতা ও সবুজ মাঠে ফুটবল নৈপুণ্য ফুটিয়ে তোলা হয়।
বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, পোশাক শিল্পের দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেই এই শিল্পের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছেন। এই ধরনের টুর্নামেন্ট তাদের সঙ্গে শিল্পের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি ঢাকা শহরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত মাঠগুলোর মধ্য থেকে একটি মাঠ বিজিএমইএকে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান। মাঠ পেলে বিজিএমইএ করপোরেট স্পন্সরদের সহায়তায় নিজ দায়িত্বে সেগুলোর আধুনিক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাফুফে সহসভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম বলেন, বিজিএমইএ একটি সুসংগঠিত পরিবার। যৌথভাবে তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল করবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাণিজ্য সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও বিজিএমইএ বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে। ঢাকার অভ্যন্তরে উপযুক্ত মাঠ পেলে বিজিএমইএ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেগুলোর উন্নয়ন ও দেখভাল করবে। এ ছাড়া বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’ যুক্ত করার কাজ চলছে এবং অচিরেই বিকেএসপির কারিকুলামেও এটি অন্তর্ভুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, বিগত ৫৬ বছরে ক্রীড়াঙ্গনকে যেভাবে পেশাদারত্বের সঙ্গে গড়ে তোলা উচিত ছিল, তা না হলেও বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় রূপান্তর শুরু হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালুর পাশাপাশি করপোরেট হাউজগুলোকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজিএমইএ এর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ঢাকার উত্তরা তৃতীয় ফেজ এলাকায় একটি মাঠ বরাদ্দের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

