রাজস্ব বাড়াতে তৎপর এনবিআর

জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে নতুন ৯ কর অঞ্চলের কার্যক্রম

রাজস্ব বাড়াতে তৎপর এনবিআর

রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আদায় করতে না পারলেও প্রতি বছরই বাড়ছে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা। আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব আহরণে বিশাল বোঝা চাপছে এনবিআরের কাঁধে। লক্ষ্য অর্জনে করের আওতা বাড়াতে নতুন ৯টি কর অঞ্চলের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠানটি। আগামী জুলাই থেকে নতুন কর অঞ্চলের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

এনবিআর সদস্য জিএম আবুল কালাম কায়কোবাদ কর অঞ্চল স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আমার দেশকে বলেন, এর মাধ্যমে করদাতা ও কর আহরণের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর মনিটরিংয়ে সুবিধা হবে। এছাড়া অধিকাংশ উপজেলায় সার্কেল অফিস স্থাপনও সম্ভব হবে এতে।

বিজ্ঞাপন

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ৪১টি কর অঞ্চল রয়েছে। নতুন ৯টি যুক্ত হলে কর অঞ্চলের সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত হবে। বর্তমানে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ৪টি কর অঞ্চল রয়েছে। ৪টি কর অঞ্চল পুনর্বিন্যস্ত করে চট্টগ্রাম-৫ ও চট্টগ্রাম-৬ নামে আরো দুটি কর অঞ্চল এবং কক্সবাজার-১ নামে নতুন আরো একটি কর অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। কুমিল্লা কর অঞ্চল ভেঙে নোয়াখালী নামে পৃথক আরো একটি কর অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করবে এনবিআর। এছাড়া নরসিংদী, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও দিনাজপুরে নতুন ৫টি কর অঞ্চল স্থাপন করা হবে। তবে কর অঞ্চলগুলোর অধিক্ষেত্র এখনো নির্ধারণ হয়নি।

জানা গেছে, প্রতিটি কর অঞ্চলের প্রধান হিসেবে থাকবেন কমিশনার। তবে এখনই নতুন কোনো কমিশনারকে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দিয়ে পদায়ন করা হচ্ছে না। নতুন কর অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন কর অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনারদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কর অঞ্চলের দায়িত্ব বণ্টনে ইতোমধ্যে আদেশ জারি করেছে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কর কমিশনাররা নতুন কর অঞ্চল স্থাপনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।

কর অঞ্চলে ৪টি করে রেঞ্জ অফিস থাকবে। রেঞ্জ-১-এ প্রধান হিসেবে থাকবেন অতিরিক্ত কমিশনার। অপর রেঞ্জ-২, রেঞ্জ-৩ এবং রেঞ্জ-৪-এ প্রধানের দায়িত্বে থাকবেন ‍যুগ্ম কমিশনার। আবার ৪টি রেঞ্জ অফিসের অধীনে থাকবে মোট ২২টি সার্কেল অফিস। সার্কেল অফিসের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন উপ-কর কমিশনার, সহকারী কর কমিশনার, অতিরিক্ত কর কমিশনার, পরিদর্শক ও অন্যান্য স্টাফ। এসব জনবলের মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে পরিদর্শকসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। জনবল নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে এনবিআরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মোট ৪১টি কর অঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ২৫টি, চট্টগ্রামে ৪টি, সিলেট, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও বগুড়ায় একটি করে কর অঞ্চল রয়েছে। এছাড়া বৃহৎ কর অঞ্চল ও কর জরিপ নামে আলাদা দুটি কর অঞ্চল আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের রাজস্ব আয় এখনো পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীল। রাজস্ব আয়ের ৬৬ থেকে ৬৭ শতাংশই আসে পরোক্ষ কর থেকে। অর্থাৎ রাজস্ব আয়ের দুই-তৃতীয়াংশই আসে পরোক্ষ কর থেকে। পরোক্ষ করের মধ্যে রয়েছে মূল্য সংযোজন কর (মূসক), আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্কের মতো শুল্ক। পরোক্ষ কর বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। এজন্য অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সরকারের রাজস্ব আয়ের সিংহভাগই প্রত্যক্ষ কর থেকে হওয়া উচিত। সাধারণত আয়ের ওপর আরোপিত কর থেকে প্রত্যক্ষ কর আদায় করা হয়। যেহেতু আয়ের ওপর থেকে এ কর আদায় করা হয়, সেজন্য সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব কম পড়ে এবং এতে ধনী ব্যক্তিরা বেশি কর প্রদান করে থাকেন। সমাজে বৈষম্য দূর করতে প্রত্যক্ষ কর ভূমিকা পালন করে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, রাজস্ব আদায়ে প্রত্যক্ষ করহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। এখনো রাজস্ব আয় পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থায় রাজস্ব আদায়ে প্রত্যক্ষ কর বাড়াতে নতুন নতুন উৎস চিহ্নিত করতে হবে। বর্তমানে গ্রাম-গঞ্জে অনেক গ্রোথ সেন্টার গড়ে উঠেছে। এসব গ্রোথ সেন্টারকে লক্ষ্যবিন্দুতে রেখে সম্ভাব্য আয়করের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব। এছাড়া হাইওয়েগুলোকে আশ্রয় করে অনেক আরবান করিডর তৈরি হয়েছে। সেগুলোকে টার্গেট করেও আয়কর প্রদানকারীর তালিকা প্রণয়ন করা যায়। এছাড়া আয়কর ফাঁকি রোধ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন