পৃথিবীর মতো নিকটবর্তী গ্রহে বায়ুমণ্ডলের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবীর মতো নিকটবর্তী গ্রহে বায়ুমণ্ডলের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবীর মতো নিকটবর্তী গ্রহে বায়ুমণ্ডলের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা
বায়ুমণ্ডল। দূরের একই শীতল লাল বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে আরেকটি পাথুরে গ্রহ। ছবি: সিএফএ

মহাবিশ্বে প্রাণের বিকাশের জন্য মূলত তিনটি প্রধান উপাদান প্রয়োজন—গ্রহটি পাথুরে হওয়া, তরল পানির উপস্থিতির জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা থাকা এবং একটি বায়ুমণ্ডল থাকা। সম্প্রতি একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী এমন একটি পাথুরে গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যেখানে এই তিনটি উপাদানেরই উপস্থিতি রয়েছে।

তবে এখনই সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ মেলেনি। গ্রহটির নাম দেওয়া হয়েছে 'এলএইচএস ১১৪০বি'। এটি আমাদের সৌরজগৎ থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী 'সায়েন্স'-এ এই আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই পাথুরে গ্রহটিতে হিলিয়াম সমৃদ্ধ একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে। সম্ভাব্য বাসযোগ্য কোনো পাথুরে গ্রহে বায়ুমণ্ডলের উপস্থিতি পাওয়ার এটিই প্রথম স্পষ্ট প্রমাণ।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করা গ্রহ বিজ্ঞানী কলিন চেরুবিন বলেন, ‘এই মুহূর্তে গ্রহে প্রাণের কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। তবে আমরা মনে করি প্রাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো সেখানে রয়েছে।’

এমআইটির জ্যোতির্পদার্থবিদ সারা সিগার এই আবিষ্কারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এক্সোপ্ল্যানেট বা বহির্গ্রহের ক্ষেত্রে একটির সন্ধান পাওয়া মানে এমন আরো গ্রহের অস্তিত্ব থাকা।

গ্রহটির বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশ

'এলএইচএস ১১৪০বি' গ্রহটি ২০১৭ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। এটি পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা ঠান্ডা হলেও আকারে এবং ভরে অনেক বড়। গ্রহটি তার নক্ষত্রের এমন একটি দূরত্বে থেকে প্রদক্ষিণ করে, যাকে 'বাসযোগ্য অঞ্চল' বলা হয়। ফলে গ্রহটির পৃষ্ঠে তরল পানি থাকা সম্ভব।

তবে পৃথিবীর সঙ্গে এর কিছু বড় পার্থক্যও রয়েছে। গ্রহটি মাত্র ২৫ দিনের কম সময়ে তার নক্ষত্রকে একবার পূর্ণ প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া গ্রহটি তার নক্ষত্রের দিকে সবসময় একই মুখ করে থাকে। ফলে সেখানে আমাদের পৃথিবীর মতো দিন-রাতের কোনো চক্র নেই। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যেখানে নাইট্রোজেনে ঠাসা, সেখানে এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে হিলিয়ামের আধিক্য রয়েছে।

যেভাবে চলল গবেষণা

গ্রহটি মূলত একটি 'রেড ডোয়ার্ফ' বা লাল বামন নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। আমাদের গ্যালাক্সিতে এই ধরনের নক্ষত্র সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সাধারণত এই নক্ষত্রগুলো থেকে তীব্র বিকিরণ বের হয়, যা চারপাশের গ্রহের বায়ুমণ্ডলকে ধ্বংস করে দেয়। তবে এলএইচএস ১১৪০বি যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, সেটি অন্যান্য লাল বামন নক্ষত্রের চেয়ে কম সক্রিয়।

২০২৪ সালে চিলির লাস ক্যাম্পানাস অবজারভেটরির টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা গ্রহটি পর্যবেক্ষণ করেন। তখন উচ্চতর বায়ুমণ্ডলে হিলিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ছিল। তবে ২০২৫ সালে পুনরায় পর্যবেক্ষণের সময় হিলিয়াম ছড়িয়ে পড়ার কোনো লক্ষণ মেলেনি।

কার্নেগি অবজারভেটরির বিজ্ঞানী শ্রেয়াস বিসাপ্রাগা বলেন, ‘আমরা পৃথিবীর মতো একটি গ্রহের বায়ুমণ্ডলকে বাস্তব সময়ে পরিবর্তিত হতে দেখছি, যা বেশ দারুণ একটি বিষয়।’

বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কারটি পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার ক্ষেত্রে এবং মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন