বিশ্ববাজারে কমল সোনার দাম

বিশ্ববাজারে কমল সোনার দাম

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম সামান্য কমেছে।

বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে (বুলিয়ন মার্কেট) সোনার দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে সোনার দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী সোনার ফিউচার মূল্য ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭০.২০ ডলারে নেমেছে।

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২ ডলারের বেশি বেড়েছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এর ফলে বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে নীতিগত সুদহার বিষয়ে ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঝুঁকি সোনার দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।

জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘ সময় সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার সুযোগব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা সোনার দামের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বুধবার গ্রিনিচমান সময় সন্ধ্যা ৬টায় সুদহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার কথা রয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারও নীতিগত সুদহার অপরিবর্তিত রাখতে পারে সংস্থাটি।

তবে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে লেনদেন করছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) তথ্য। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংস্থাটির মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ।

স্বাধীন আর্থিক বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস বলেন, পিসিইর তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় ইতিবাচক হলে এবং ফেড বাজারের ধারণার চেয়ে কম কঠোর অবস্থান নিলে সোনার দাম আবারও বাড়তে পারে।

মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ মুনাফা, শক্তিশালী ডলার এবং দীর্ঘ সময় সুদের হার বেশি থাকার প্রত্যাশার কারণে ২০২৬ সালে সোনার সম্ভাব্য দামের পূর্বাভাস টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকের মতো কমিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। তবে রয়টার্সের এক জরিপে ২০২৭ সালে সোনার দাম আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তারা।

একই জরিপে ২০২৬ সালে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামের পূর্বাভাসও টানা তৃতীয় প্রান্তিকে কমানো হয়েছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৪.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৩৮.৫০ ডলারে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৭.৮০ ডলারে পৌঁছেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন