২০২৪ সালেও বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণপ্রবাহ কমেছে। গত বছর এ খাতে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার কমেছে। যদিও ২০২৩ সালে তার আগের বছরের তুলনায় কমে ১১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ডলারের সুদহার বেড়ে যাওয়া, টাকার মান কমে যাওয়ার শঙ্কা, বাংলাদেশের কান্ট্রি রেটিং কমিয়ে দেওয়া ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসায়ীদের বিদেশি ঋণে আগ্রহ না থাকায় স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণপ্রবাহ কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে বিদেশি মোট ঋণ এসেছে ২১ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার, আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ২৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বিদেশি ঋণপ্রবাহ কমেছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ বা ১৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
অন্যদিকে গত বছর সুদসহ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল ২৩ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গত বছর ঋণ পাওয়ার চেয়ে পরিশোধ হয়েছে ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার। যদিও ২০২৩ সালে ঋণ পাওয়ার চেয়ে পরিশোধ হয়েছিল ৪ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। এতে বোঝা যায়, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে ঋণ পরিশোধের চাপ কম ছিল।
বিদেশি উৎস থেকে দেশের বেসরকারি খাতের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের সর্বোচ্চ এক বছর মেয়াদের জন্য তহবিল ঋণ নেওয়াকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ হিসেবে ধরা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য আমদানিকারকরা বিদেশি ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ নেন, যা বায়ার্স ক্রেডিট নামেও পরিচিত। আমদানি দায় পরিশোধে ব্যাংকগুলোও বিদেশি উৎস থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করে থাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার অনেক বেড়েছে। এখানকার ব্যবসায়ীরা আগামীতে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিদেশি ঋণ সরবরাহকারীদের অনেকে এখন ঋণ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অন্যদিকে সুদহার ও বিনিময়হারের কারণে গত বছর ব্যবসায়ীদের অনেকে ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাননি। এসব কারণে বিদেশি ঋণ এসেছিল কম। বরং বিভিন্ন উপায়ে ডলার কিনে আগের ঋণ সমন্বয় করা হয়েছিল।
যদিও করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে বিশ্ববাজারে ঋণের সুদহার শূন্যের কাছাকাছি নামে। হুন্ডি বন্ধ থাকায় ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড ২৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। রপ্তানি বাড়ে ১৫ শতাংশের বেশি। বেশিরভাগ দেশে তহবিল পড়ে ছিল। অথচ বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ওই সময়েই স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ বাড়ে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সস্তায় নেওয়া এসব বিদেশি ঋণ পরিশোধেই বেশি মনোযোগী ব্যবসায়ীরা।
তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ১১ দশমিক ৭৯৩ বিলিয়ন ডলার। গত বছর তা কমে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ১৩২ বিলিয়ন ডলার।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আমরা যেসব ঋণ নিয়েছি তা এখন পরিশোধ করছি। এজন্য পরিশোধের চাপে স্থিতি কমছে। আবার ঋণ আসছেও কম। ঋণ কম আসার কারণ হলো বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে চাচ্ছে না। কারণ দেশের রেটিং নেতিবাচক রয়েছে। আবার আমরাও নিচ্ছি না ডলার রেট ওঠা-নামা এবং ঋণে সুদহার বৃদ্ধির কারণে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

