ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন করে আবেদনপত্র আহ্বান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে ঋণ পাওয়া আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপন বিষয়ক গাইডলাইন্স প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। গত দুই বছর বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন এবং নিত্যনতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটেছে। এ অবস্থায় ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া পুনরায় নতুনভাবে শুরু করার লক্ষ্যে গাইডলাইন্সে বিভিন্ন পরিবর্তন আনয়নপূর্বক ‘ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপন বিষয়ক গাইডলাইন্স, ভার্সন-২’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের নির্ধারিত প্রস্তাবপত্রের সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা (অফেরতযোগ্য) ফি জমা দিতে হবে। এ টাকা যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে দিতে হবে। শর্ত পূরণ না করলে আবেদন বাতিল হবে।
এ ছাড়া আবেদনপত্র সরাসরি জমা দেওয়ার পাশাপাশি ই-মেইলের মাধ্যমেও সব নথি জমা দিতে হবে। বিস্তারিত নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৪ জুন ডিজিটাল ব্যাংকের নীতিমালা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ছিল ১২৫ কোটি টাকা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা বৃদ্ধি করে ৩০০ কোটি টাকা করেছে।
পাশাপাশি উদ্যোক্তা বা স্পন্সর এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবর্তন করা হয়েছে। তাড়া ডিজিটাল ব্যাংকের অপারেশন ও সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবার ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য ৫২ টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্যে নগদ ও কড়ি নামে দুটি ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি। তাই নতুন করে ডিজিটাল ব্যাংক দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

