বিআইডিএসের গবেষণা

প্রতিযোগিতা বাড়লে এনজিওর সুদের হার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে

প্রতিযোগিতা বাড়লে এনজিওর সুদের হার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে

গ্রামীণ অর্থনীতিকে বেগবান করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে দেশের ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (এনজিও)। আগে যেখানে একটি গ্রামে দুই-একটির বেশি এনজিও ছিল না, সেখানে বর্তমানে দেশের গ্রামগুলোতে গড়ে ৫-৬টি করে এনজিও রয়েছে। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বেশি হওয়ায় সুদের হারও কম হচ্ছে। গ্রামের মহাজনের অতিসুদের চাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মাইক্রোফাইন্যান্স কম্পিটিশন ইন দ্যা প্রেজেন্স অফ মানিলেন্ডারস: থিওরি এন্ড এভিডেন্স শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য উঠে আসে। সেমিনারে মূল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শ্যমল চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিআইডিএসের বারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. কাজী ইকবাল।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে ক্ষুদ্রঋণের কার্যক্রমের কারণে গ্রামের মহাজনের কাছ থেকে অতিসুদে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা প্রায় ৩৩ শতাংশ কমে গেছে। গ্রামগুলোতে নতুন নতুন এনজিও আসায় সুদের হারও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বর্তমানে দেশের গ্রামগুলোতে ৫-৬টি করে এনজিও রয়েছে। যার ফলে গ্রামের মহাজন বা দাদন দাতাদের কাছ থেকে অতিসুদে ঋণ কমে যাচ্ছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে অধ্যাপক শ্যমল চৌধুরী বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস গ্রামীন ব্যাংকের যাত্রা যখন শুরু করেছিলেন। তখন তার ইচ্ছাই ছিল যে মহাজনের কাছে যাতে মানুষ আর ঋন নিতে না যায়। কারণ তাদের সুদের হার অনেক বেশি। এনজিওগুলো যখন গ্রামে যাওয়া শুরু করেছে, তখন থেকে মহাজনদের দেওয়া ঋণের পরিমাণ কমছে। একটি গ্রামে যদি একটি এনজিও বাড়ে তবে, মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ২৫ শতাংশ কমে যায়।

তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ ও সিলেটের চার জেলার ১৫০টি গ্রামে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, এসব এলাকায় অনেক ব্যাংক হয়েছে। তারপরও মহাজনরা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঋণ আসছে ২০-৩০ শতাংশ। তবে গ্রামের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এজিওদের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে। ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে এখনো ৫ শতাংশের কম। কারণ ব্যাংকগুলো এখনো সেভাবে পৌছায়নি।

তিনি বলেন, বাজারে মহাজন থাকবে কিনা তা নির্ভর করছে মহাজনের ঋণের চাহিদার ওপর। চাহিদা থাকলে মহাজনও থাকবে। কারণ হঠাত করে অসুস্থ পড়ার কারণে মহাজনের কাছে এখনো মানুষ যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো দ্রুত যাচ্ছে না। বেশি করে যখন এনজিও যাচ্ছে তখন গ্রামের মানুষ হসপিটালে যাবে। যদি ক্রেটিড কার্ড থাকে তবে সমস্যা নেই। যদি না থাকে তবে বাধ্য হয়ে এনজিওর কাছে যেতে হয়। ভূমিকাটা এখনো রয়েগেছে।

শ্যমল চৌধুরী বলেন, উত্পাদনশীল খাতের ঋণ আসছে এনজিওদের কাছ থেকে। যেমন, কৃষি জমি বা খাদ্য শস্য বন্ধক দিয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিচ্ছে। কিন্তু অন্য কোনো কারণে হঠাত করে ঋণের দরকার পড়ছে তখন মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন