কারসাজি করে ডলারের দর বাড়ানো যাবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। কেউ যদি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি দামে ডলার কেনা-বেচা করে তবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেন গভর্নর। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে এ বৈঠক হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র গভর্নর এতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজার ও সমসাময়িক বিষয়ে নিয়ে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডাকা সভায় ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসেন ও বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকারসহ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে গভর্নর সভায় যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব কর্মকর্তাকে সভাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা বের হয়ে গেলে গভর্নর জানতে চান ডলার বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যত দর কেমন হতে পারে এবং দাম বাজারভিত্তিক না নির্দেশিত? এ সময় কয়েকজন ট্রেজারি প্রধান জানান, ডলারের দাম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময় নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এখনো দিয়ে যাচ্ছে। কিছু হলে পরিদর্শকদের পাঠানো হয়। যখন ডলার সরবরাহ বেশি থাকে তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনে নেয়। নিলামে এ ডলার কেনার সময়ও নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধান বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে বলে জানান গভর্নর। তিনি জানান, ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ডলার নিয়ে কী করছে, তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে ডলারের লেনদেন কীভাবে হচ্ছে এবং এর প্রকৃত দাম কত রাখা হচ্ছে। তাই কোনোভাবেই ডলারের তথ্য গোপন করা যাবে না।’
ট্রেজারিপ্রধানদের গভর্নর আরো বলেন, কোনো অবস্থাতেই ডলারের দর বাড়ানো চলবে না। যদি কেউ বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মের মধ্যে থেকে ডলার বেচাকেনা করতে হবে। এছাড়া ফরওয়ার্ড মার্কেটে ডলার বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
এরপর গভর্নর চলে গেলে সভাস্থল ছেড়ে যাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ট্রেজারি প্রধানদের সঙ্গে সভা করেন। তখন ট্রেজারি প্রধানেরা জানান, ‘ডলারে বাজারে কোনটাকে কারসাজি হিসেবে ধরা হবে, তার তালিকা দিলে সবার জন্য ভালো হয়। এতে সবাই নিয়ম মেনে চলতে পারবে।’ তবে শেষ পর্যন্ত সভাটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
উল্লেখ, গত বছরের মে মাসে বাজারভিত্তিক ডলার দর ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের কিস্তি ছাড়ের শর্ত হিসেবে ওই সময় এ উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক বিনিময় হার প্রতি মার্কিন ডলারে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

